Somoy TV
টানা ১০-১২ দিন বৃষ্টির পর মৌলভীবাজারে বুধবার (৬ মে) দ্বিতীয় দিনের মতো রোদের দেখা মিলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রোদ আসায় হাওরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পচে যাওয়া বোরো ধান থেকে যেটুকু টিকে আছে, তা এখন ঘরে তোলার শেষ চেষ্টায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির উঠান বা উঁচু স্থানে সংগৃহীত ধান শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশুরা। বোরো ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা এখন হাওর থেকে তুলে আনা আধপচা ধানগুলো রোদে দিচ্ছেন। তাদের মতে, যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে, এখন খড় বা যৎসামান্য খাবারের আশায় তারা এই শেষ চেষ্টা করছেন।মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রনভীম গ্রামের কৃষক মশাহিদ মিয়া ও লাভলী বেগম সময় সংবাদকে জানান, বৃষ্টির পানিতে তাদের বোরো ফসল পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ধান কোনোমতে ঘরে তুলতে পারলেও টানা বৃষ্টির কারণে গত কদিন তা শুকাতে পারছিলেন না।লাভলী বেগম বলেন, আজ দুই দিন রোদ পাওয়ায় ধানগুলো রোদে দিচ্ছি। কিন্তু ধান তো সব পচে গেছে, এগুলো দিয়ে ভালো চাল পাওয়া যাবে না। হাকালুকি ও কাউয়াদিঘি হাওরপাড়ের অন্য কৃষকদের অবস্থাও একই রকম।আরও পড়ুন: হাওড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন ক্যাটাগরিতে সহায়তা দেবে সরকারকৃষি বিভাগের মঙ্গলবার (৫ মে) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও কাইঞ্জারসহ জেলার সবকটি হাওরের বোরো ফসল অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল এরই মধ্যে বিনষ্ট হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও অনেক বেশি। পাহাড় ও ছড়ার পানি নামতে থাকায় নতুন নতুন এলাকা এখনো প্লাবিত হচ্ছে এবং হাওরের শত শত হেক্টর বোরো ধান এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে।মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, উজানে বৃষ্টি না হওয়ায় জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে জেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে পাহাড় ও ছড়ার পানি এখনো গড়িয়ে হাওরে পড়ছে। ফলে নদীগুলোর পানি কমলেও হাওরের পানি এখনই কমছে না।
Go to News Site