Collector
দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা, প্রতিবাদ সভা | Collector
দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা, প্রতিবাদ সভা
Somoy TV

দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা, প্রতিবাদ সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতের অন্ধকারে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ও হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে প্রতিবাদ সভা হয়েছে।বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।এসময় বক্তারা বলেন, চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় হত্যা, ছিনতাইসহ ৯টি মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রাব্বির নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করার সুবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাব্বি ও অন্য হামলাকারীরা। পুলিশ তাকে গ্রেফতারে চরম উদাসীনতা ও রহস্যজনক পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক নেতারা।বক্তারা আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের বাতেনখাঁ মোড় এলাকায় দুই সাংবাদিক তারেক রহমান (চ্যানেল ওয়ান, আমার দেশ) ও তারেক আজিজকে (মাই টিভি) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুরো জেলায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও মামলার প্রধান দুই আসামি রাব্বী ও সোহেল রানা জিনজিরকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, কিশোর অপরাধী চক্রের মূলহোতা ও হত্যাসহ ৯ মামলার আসামি রাব্বি পুলিশের 'সোর্স' হিসেবে কাজ করার সুবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।প্রতিবাদ সভায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলার ঘটনার প্রধান আসামিসহ হামলাকারীদের গ্রেফতার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে আহতসভায় বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, দৈনিক চাঁপাই দর্পণের সম্পাদক আশরাফুল হক রঞ্জু, চাঁপাই চিত্রের সম্পাদক কামাল উদ্দিন, সিটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল প্রমুখ।এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাব্বি ও সোহেল রানার নেতৃত্বে ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্রসহ এই হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা তারেক রহমানকে জনসম্মুখে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং তাকে বাঁচাতে আসা তারেক আজিজকে কুপিয়ে জখম করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো অধরা থাকায় সাংবাদিক মহলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাব্বিকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না হলে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষের গায়ে হাত তোলা বা হেনস্তা করা হামলাকারীদের জন্য আরও সহজ হয়ে পড়বে। সোর্স পরিচয়ে যদি অপরাধীরা রেহাই পায়, তবে জেলায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদকর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং এর যাবতীয় দায়ভার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেই নিতে হবে। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার মূলহোতাদের গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, জেলায় দুজন সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাব্বি সম্ভাব্য যেসব জায়গায় থাকতে পারে ওইসব জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রাব্বি পুলিশের সোর্স এই কথাটি সম্পূর্ণ ভুল।’

Go to News Site