Jagonews24
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহেই এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে মঙ্গলবার (৫ মে) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ৩ মে অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরু করার বিষয়টি গোপনে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য হলো জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উত্তেজনা কমানো। তবে অভিযান শুরুর ২ দিন পর বুধবার (৬ মে) অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থিগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে পেন্টাগন প্রধান হেগসেথ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রম চললেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, আলোচনা অচলাবস্থায় থাকলে ট্রাম্প খুব শিগগির আবারও সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। এর মধ্যে ১ মে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত বিদেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের অংশ ছিল। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়। একই দিনে মিনব শহরে শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এবং ইসরায়েল ১০০ দফা আক্রমণ চালায় ইরান। ৩৯ দিন পর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থায় ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২১ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে তেহরান একতরফা এই সিদ্ধান্ত স্বীকার করেনি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ৪০ দিনের এই সংঘাতে ৩,৩৭৫ জন নিহত হয়েছে। কেএম
Go to News Site