Jagonews24
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বইয়ের ৫ পৃষ্ঠা জোরে জোরে শব্দ করে পড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণিতের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ শেখানোর ওপর জোর দিতেও বলা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২৭ এপ্রিল এবং ৫ মে দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। তিনি তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত শিক্ষার ওপর জোর দেন। আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চমের শিক্ষার্থীদের সাবলীলভাবে বাংলা ও ইংরেজি পড়ার দক্ষতা ৯০ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ১০০ শতাংশ অগ্রগাতি নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন। এদিকে সচিবের নির্দেশনা মেনে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এ সংক্রান্ত চিঠি জাগো নিউজের হাতে এসেছে। তাতে এ সচিবের নির্দেশনা বাস্তবায়নে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। বাংলা-ইংরেজি-গণিত পড়ানোর পর অন্য পাঠচিঠিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশনা মোতাবেক আগামী জুন মাসের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গণিতের চার নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়ার দক্ষতা ৯০ শতাংশ এবং জুলাই মাসের মধ্যে তা ১০০ শতাংশ অর্জনের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির বাংলা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পাঠ্যবই প্রতিদিন ৫ পৃষ্ঠা করে ছাত্র-ছাত্রীদের জোরে জোরে শব্দ করে পড়াতে হবে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির গণিত বিষয়ে কিছু সময় যোগ, বিয়োগ, ভাগ ও গুণ শেখাবেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত পাঠ পরিচালনা করবেন। শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি করে চিঠিতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (জুন-জুলাই) কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হলে সব শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং তা ১০ মের মধ্যে ছক আকারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হবে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আজই এ চিঠি দিয়েছি। অন্যান্য জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও একই ধরনের নির্দেশনা দেবেন বা দিয়েছেন। এটি সচিব স্যারের নির্দেশ। আমাদের সঙ্গে দুই দফা ভার্চুয়ালি মিটিং করে তিনি এ লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটাও মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে আমাদের বলা হয়েছে। সেটাই আমরা শিক্ষকদের জানিয়ে সতর্ক করেছি। শিক্ষার্থীরা পড়তে না পারলে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পাবেন না- এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে।’ জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বাংলা-ইংরেজি রিডিংটা যাতে শিক্ষার্থীরা পড়তে পারে, সেটা নিশ্চিতের কথাও রয়েছে। এটা করতেই হবে, তা না হলে বর্তমান সরকারের যে লক্ষ্য, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’ এএএইচ/এমআইএইচএস
Go to News Site