Collector
স্বাস্থ্য সহকারী সংকটে ব্যাহত হাম-রুবেলার টিকাদান | Collector
স্বাস্থ্য সহকারী সংকটে ব্যাহত হাম-রুবেলার টিকাদান
Somoy TV

স্বাস্থ্য সহকারী সংকটে ব্যাহত হাম-রুবেলার টিকাদান

খুলনা বিভাগজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্যকর্মী সংকট। বিভাগের ১০ জেলায় মোট ২০ হাজার ৯০৯টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৬ হাজার ৮৮৮টি পদ, যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে অনেক এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগঝুঁকি বাড়ছে।মাঠপর্যায়ে এই সংকটের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী সুভাষ চন্দ্র গাইন জনবল ঘাটতির কারণে সপ্তাহে দুই দিন ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে একই উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ‘একজন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে আমাদের নির্দিষ্ট এলাকা থাকার কথা। কিন্তু এখন জনবল কম থাকায় একাধিক এলাকায় দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। এতে সময়মতো সব সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। টিকাদান কর্মসূচি, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, সবকিছু সামলাতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’ তথ্য বলছে, খুলনায় ৩৯২টি স্বাস্থ্য সহকারীর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫০ জন। ফলে প্রতিটি কর্মীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। শুধু খুলনা নয়, পুরো বিভাগেই একই অবস্থা। ১০ জেলায় মোট কর্মরত আছেন ১৪ হাজার ২১ জন। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পদই শূন্য। এর প্রভাব পড়ছে টিকাদানসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রায় সবখানেই। হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একজন কর্মীকে এখন একসঙ্গে টিকাদান, ইপিআই কার্যক্রম, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবার সব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে সেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি; কিন্তু দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়ছে না।’ আরও পড়ুন: গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে আবারও গুলি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. বাহারুল আলম বলেন, ‘হামের মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বৃহৎ পরিসরের টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ধরনের কর্মসূচি সফল করতে হলে দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল অপরিহার্য। জনবল সংকট থাকলে শুধু টিকাদান নয়, পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। এতে রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’ তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা অস্থায়ীভাবে অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী ও সিনিয়র নার্সদের এই কার্যক্রমে যুক্ত করছি, যাতে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্যও কাজ চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এই সংকট অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’ স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ইতোমধ্যে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় বিভাগজুড়ে ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮২১ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে; আর তার খেসারত দিতে হতে পারে শিশুদেরই।

Go to News Site