Somoy TV
লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন শহরে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে অন্তত চার বেসামরিক নিহত ও অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন। নেতানিয়াহুর দাবি, তাদের অভিযানে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে নেতানিয়াহু বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ।বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে হারত হরিক ও সাকসাকিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হতাহত হন কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্স-এর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এতে বাহিনীটির এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলেও দাবি তেল আবিবের। লেবাননে চালানো হামলায় সাধারণ গোলাবারুদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্রের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। লেবাননের ইয়োহমোর আল-শাকিক এলাকায় দখলদার বাহিনী কামানের গোলা হিসেবে ফসফরাস শেল ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি বৈরুতের। ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের হুলা শহরে নেতানিয়াহু বাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম ও বুলডোজার ধ্বংসের দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরাইলি সেনা এবং সামরিক যান লক্ষ্য করে নিয়মিত রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে তারা। হিজবুল্লাহর দাবি, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় এবং ইসরাইলি হামলার জবাবে তারা এই পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। আরও পড়ুন: লেবাননে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার আহ্বান হিজবুল্লাহর চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক স্থবিরতার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ফলপ্রসূ আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেও হিজবুল্লাহ হামলার মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করতে চাইছে। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের ভেতরে হামলা এবং লেবাননের অভ্যন্তরে ভীতি ছড়িয়ে হিজবুল্লাহ কূটনীতিতে বাধা দিচ্ছে। এদিকে, গাজায় ইসরাইলি হামলায় হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭ জন। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। আলাদা হামলায় গাজা সিটিতে হামাস নেতার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। হামাস এই ধারাবাহিক হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই ইসরাইল এমন নৃশংসতা চালানোর সাহস পাচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইসরাইলি আগ্রাসন থামাতে জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি।
Go to News Site