Collector
কুতর্ক নয়, করণীয়: দেশপ্রেম জাগিয়ে দেশ গঠনের পথ | Collector
কুতর্ক নয়, করণীয়: দেশপ্রেম জাগিয়ে দেশ গঠনের পথ
Jagonews24

কুতর্ক নয়, করণীয়: দেশপ্রেম জাগিয়ে দেশ গঠনের পথ

বহুতর্কে দিন বয়ে যায়বিশ্বাসে ধন নিকটে পায়।সিরাজ সাঁই ডেকে বলে লালনকেকুতর্কের দোকান খুলিস নে আর।।-লালন ফকির ‘কুতর্ক’ শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি গভীর অর্থবহ ধারণা বহন করে। ‘কু’ মানে খারাপ বা ভ্রান্ত, আর ‘তর্ক’ মানে যুক্তি বা বিতর্ক। সুতরাং, কুতর্ক বলতে বোঝায়—এমন তর্ক বা যুক্তি, যা সত্যের অনুসন্ধান নয়; বরং ভুল প্রমাণ করা, বিভ্রান্ত করা বা নিজের অবস্থান জোর করে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিকৃত, অর্ধসত্য বা অসত্য যুক্তির আশ্রয় নেওয়া। এখন আসি লালন ফকিরের গানের সেই পঙক্তিতে—‘কুতর্কের দোকান খুলিস নে আর’ এই লাইনটির ভেতরে লালনের দর্শনের এক গভীর মানবিক ও আধ্যাত্মিক বার্তা লুকিয়ে আছে। এখানে ‘কুতর্কের দোকান’ বলতে বোঝানো হয়েছে—এক ধরনের মানসিকতা, যেখানে মানুষ সত্য বোঝার জন্য নয়, বরং অহংকার, গোঁড়ামি বা নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তর্ক করে। যেন কেউ যুক্তির নামে ‘দোকান’ খুলে বসেছে—যেখানে সত্য বিক্রি হয় না, বরং ভ্রান্তি আর আত্মপ্রবঞ্চনাই চলে। লালন বলছেন, যে ব্যক্তি সত্যের পথ খুঁজে পেয়েছে, আত্মজ্ঞান বা মানবিক বোধে উন্নীত হয়েছে, সে আর এই ‘কুতর্কের দোকান’ চালায় না। কারণ— সে বুঝে গেছে, তর্কে জয়লাভ করাই আসল নয়, সত্য উপলব্ধিই মূল বিষয়। অহংকার থেকে জন্ম নেওয়া তর্ক মানুষকে বিভক্ত করে। কুতর্ক মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। লালনের দর্শনে, সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি তর্কপ্রবণ নয়, বরং সহিষ্ণু, উদার ও অনুসন্ধানী। সে প্রশ্ন করে, কিন্তু প্রশ্নের উদ্দেশ্য হয় বোঝা—জেতা নয়। কুতর্ক হলো এমন যুক্তি, যা আলো ছড়ায় না, বরং ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। আর লালনের ভাষায়, সত্যসন্ধানী মানুষ সেই অন্ধকারের ব্যবসা ছেড়ে দেয়। দুই.আমরা কথা বলতে ভালোবাসি—দেশ নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে, উন্নয়ন নিয়ে। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই তর্ক-বিতর্কের ঝড় ওঠে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই কথার ভিড়ে কাজ কোথায়? আমরা কি সত্যিই দেশ গঠনের পথে হাঁটছি, নাকি কুতর্ক আর দোষারোপের বৃত্তে আটকে আছি? আজকের বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় সংকট হলো দায়বদ্ধতার অভাব। আমরা সবাই পরিবর্তন চাই, কিন্তু নিজের জায়গা থেকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে চাই না। রাষ্ট্রকে দোষ দেওয়া সহজ, রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা কঠিন। ফলে, কথার চর্চা বাড়ে, কাজের চর্চা কমে। দেশ গঠন কোনো একক ব্যক্তি বা সরকারের কাজ নয়—এটি একটি সামষ্টিক প্রক্রিয়া। এখানে নাগরিক, প্রতিষ্ঠান, নেতৃত্ব—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে একটি প্রবণতা স্পষ্ট; আমরা সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার চেয়ে সমস্যা নিয়ে তর্ক করতেই বেশি আগ্রহী। এই কুতর্ক সময় নষ্ট করে, বিভাজন বাড়ায়, আর উন্নয়নের গতি শ্লথ করে। দেশ গঠনের জন্য প্রয়োজন দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব। দায়িত্বশীলতা মানে শুধু আইন মেনে চলা নয়, বরং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং সমাজের কল্যাণে সচেতন ভূমিকা রাখা। একজন শিক্ষক যদি নিষ্ঠার সঙ্গে পড়ান, একজন চিকিৎসক যদি সততার সঙ্গে চিকিৎসা দেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি দুর্নীতির বাইরে থেকে কাজ করেন—তাহলেই দেশ এগোয়। কিন্তু যখন এই জায়গাগুলোতেই গাফিলতি হয়, তখন উন্নয়নের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাস্তব অবস্থান নিতে হবে। আমরা প্রায়ই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি, কিন্তু অনেক সময় নিজের স্বার্থে আপস করি। ঘুস দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া, নিয়ম ভাঙার সুবিধা নেওয়া—এসব আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ফলে দুর্নীতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, নৈতিক অবক্ষয়ও ঘটায়। দুর্নীতিকে যদি আমরা সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করতে না পারি, তাহলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। দেশ গঠনের জন্য প্রয়োজন দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব। দায়িত্বশীলতা মানে শুধু আইন মেনে চলা নয়, বরং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং সমাজের কল্যাণে সচেতন ভূমিকা রাখা। একজন শিক্ষক যদি নিষ্ঠার সঙ্গে পড়ান, একজন চিকিৎসক যদি সততার সঙ্গে চিকিৎসা দেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি দুর্নীতির বাইরে থেকে কাজ করেন—তাহলেই দেশ এগোয়। কিন্তু যখন এই জায়গাগুলোতেই গাফিলতি হয়, তখন উন্নয়নের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরমতসহিষ্ণুতা বাড়ানো জরুরি। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মতের ভিন্নতা থাকবেই। কিন্তু আমরা ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখি, যুক্তির বদলে আবেগ দিয়ে প্রতিক্রিয়া দিই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে আক্রমণ করা যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এই সংস্কৃতি শুধু বিভাজন বাড়ায় না, গঠনমূলক আলোচনাকেও বাধাগ্রস্ত করে। দেশ গঠনের জন্য দরকার সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং যুক্তিভিত্তিক আলোচনা। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার অপরিহার্য। আমাদের শিক্ষা অনেকাংশেই পরীক্ষানির্ভর এবং মুখস্থকেন্দ্রিক। এখানে সমালোচনামূলক চিন্তা, নৈতিকতা এবং নাগরিক সচেতনতা তেমনভাবে গড়ে ওঠে না। ফলে আমরা ডিগ্রি পাই, কিন্তু দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠতে পারি না। শিক্ষা যদি মানুষকে শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে, কিন্তু সমাজ গঠনের জন্য প্রস্তুত না করে, তাহলে সেই শিক্ষা অসম্পূর্ণ। তরুণদের শক্তি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের একটি বড় সম্পদ হলো তার তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু এই শক্তি যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না পায়, তাহলে তা হতাশা, বেকারত্ব এবং সামাজিক অস্থিরতার দিকে ধাবিত হতে পারে। তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টির সুযোগ এবং নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি। তাদের শুধু স্বপ্ন দেখানো নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথও তৈরি করতে হবে। নেতৃত্বের মানোন্নয়ন অপরিহার্য। নেতৃত্ব শুধু ক্ষমতার চর্চা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। একজন প্রকৃত নেতা নিজের স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন। কিন্তু যখন নেতৃত্ব স্বার্থান্বেষী হয়ে পড়ে, তখন জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। তাই রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক—সব ক্ষেত্রেই সৎ, দক্ষ এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন মানে হলো—আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক সময় এর ব্যত্যয় দেখি। প্রভাবশালীরা আইনের বাইরে থেকে যায়, আর সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। এই বৈষম্য সমাজে হতাশা সৃষ্টি করে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। সামাজিক মূল্যবোধ পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের সমাজে একসময় সততা, পরিশ্রম এবং নৈতিকতা অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রে অর্থ ও ক্ষমতাই প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা বদলাতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের তথ্যের জগৎ বিস্তৃত করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে বিভ্রান্তি এবং ভুয়া তথ্যের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। আমরা অনেক সময় যাচাই না করেই তথ্য শেয়ার করি, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানো এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দেশপ্রেমকে বাস্তব কর্মে রূপ দিতে হবে। দেশপ্রেম শুধু আবেগ নয়, এটি একটি দায়িত্ব। পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত গাওয়া—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের জন্য সৎভাবে কাজ করা। একজন করদাতা যদি সঠিকভাবে কর দেন, একজন নাগরিক যদি নিয়ম মেনে চলেন, একজন কর্মী যদি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন—তাহলেই প্রকৃত দেশপ্রেম প্রকাশ পায়। তিন. দেশপ্রেম জাগাতে হলে করণীয় কী দেশপ্রেম জাগানো কোনো স্লোগান বা আবেগের তাৎক্ষণিক বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি চর্চা, যা পরিবার, শিক্ষা, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব জায়গা মিলেই গড়ে তোলে। শুধু দেশ নিয়ে গর্ব করার কথা বললেই দেশপ্রেম জন্মায় না; বরং তা তৈরি হয় সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে। পরিবার থেকেই দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে হয়। শিশুরা যা দেখে, তাই শেখে। পরিবারে যদি সততা, নিয়ম মানা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা—এসব মূল্যবোধ চর্চা হয়, তাহলে সেটিই ভবিষ্যতে দেশপ্রেমের ভিত্তি তৈরি করে। দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি—এসব গল্পের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে এক ধরনের আবেগ ও সংযোগ তৈরি করা যায়। শিক্ষাব্যবস্থায় দেশপ্রেমকে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাঠ্যবইয়ে শুধু তথ্য দিয়ে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশকে জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, সামাজিক উদ্যোগ—এসবের মাধ্যমে তারা বুঝতে শিখবে দেশ মানে শুধু মানচিত্র নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রা, সমস্যা ও সম্ভাবনার সমষ্টি। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঠিক উপস্থাপন জরুরি। বিকৃত বা পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস নয়, বরং সত্যনিষ্ঠ ও সমন্বিত ইতিহাস জানতে হবে। যখন মানুষ তার শিকড়কে বুঝতে পারে, তখনই তার মধ্যে দেশপ্রেমের গভীরতা তৈরি হয়। ইতিহাস শুধু গৌরবের নয়, ভুলের শিক্ষাও দেয়—যা ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা বাড়াতে হবে। দেশপ্রেম মানে শুধু আবেগ নয়, এটি একটি দায়িত্ব। ট্রাফিক আইন মানা, কর পরিশোধ করা, পরিবেশ রক্ষা করা, দুর্নীতিকে না বলা—এসবই দেশপ্রেমের বাস্তব রূপ। আমরা যদি ছোট ছোট দায়িত্বগুলো পালন করি, তাহলে সেটিই বড় পরিবর্তনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। তরুণদের সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের শক্তি, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা দেশ গঠনের বড় সম্পদ। তাদের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা সমাজের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। উদ্যোক্তা কার্যক্রম, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সামাজিক আন্দোলন—এসবের মাধ্যমে তারা দেশপ্রেমকে কর্মে রূপ দিতে পারে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের যুগে তথ্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। যদি গণমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে দেশ, সমাজ ও উন্নয়নের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে, তাহলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য ও বিভাজনমূলক কন্টেন্ট থেকে দূরে থাকার সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে। ন্যায়বিচার ও সমতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যখন মানুষ দেখে যে রাষ্ট্র সবার জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে, তখন তার মধ্যে দেশের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা জন্মায়। বৈষম্য, অন্যায় ও দুর্নীতি দেশপ্রেমকে দুর্বল করে দেয়। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন দেশপ্রেম জাগানোর অন্যতম শর্ত। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা বাড়াতে হবে। ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, উৎসব—এসব একটি জাতির পরিচয়ের মূল উপাদান। এগুলোর চর্চা মানুষকে নিজের দেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে। দেশপ্রেম তখন শুধু রাজনৈতিক ধারণা থাকে না, এটি হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক অনুভূতি। নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেতাদের কথায় ও কাজে যদি সততা, ত্যাগ ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়, তাহলে তা জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানুষ তখন অনুপ্রাণিত হয়, অনুসরণ করতে চায়। দেশপ্রেম জাগাতে হলে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব কর্মের চর্চা করতে হবে। এটি কোনো একদিনে তৈরি হয় না, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট দায়িত্ব পালন, সচেতনতা ও ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। যখন আমরা নিজের কাজ সঠিকভাবে করি, অন্যের অধিকারকে সম্মান করি এবং দেশের কল্যাণে অবদান রাখি—তখনই প্রকৃত দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটে। চার.আমরা যদি সত্যিই দেশ গঠন করতে চাই, তাহলে কুতর্কের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দোষারোপের রাজনীতি ছেড়ে সমাধানের রাজনীতিতে যেতে হবে। কথার চেয়ে কাজকে প্রাধান্য দিতে হবে। পরিবর্তন অন্য কারও কাছ থেকে আশা না করে নিজের থেকেই শুরু করতে হবে। দেশ গঠন কোনো একদিনের কাজ নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই যাত্রা শুরু করতে হয় আজ থেকেই। আমরা যদি আজ দায়িত্বশীল হই, সততা অবলম্বন করি, সহিষ্ণুতা বাড়াই—তাহলেই আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আরও শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক এবং মানবিক।প্রশ্নটা তাই রয়ে যায়—আমরা কি এখনো কুতর্কেই সময় নষ্ট করব, নাকি সত্যিকার অর্থে দেশ গঠনের পথে হাঁটব? সিদ্ধান্ত আমাদেরই।   লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।drharun.press@gmail.com এইচআর/এমএফএ/এমএস

Go to News Site