Somoy TV
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পরাজয়ের পর দল থেকে ইস্তফা দেয়ার একদিনের মধ্যেই প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিদায়ী ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি দলীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। এক বক্তব্যে বিস্ফোরন্মুখ তিওয়ারি তৃণমূল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তার পুরো মন্ত্রিত্বকাল জুড়েই তিনি ‘অপমান ও হেনস্থার’ শিকার হয়েছেন এবং সিনিয়র ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাকে কাজ করতে দেননি।২০২১ সালে পশ্চিমঙ্গের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের ক্রীড়া অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিওয়ারি। কিন্তু তার দাবি, মন্ত্রীত্বের পদটি ছিল শুধুই ‘ললিপপ’, বাস্তবে তার হাতে কোনো ক্ষমতাই ছিল না।বুধবার (৬ মে) ফেসবুক ভিডিওতে তিওয়ারি বলেন, ‘জিতে মন্ত্রী হওয়ার পর আমি ভেবেছিলাম এই দপ্তরে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারব। কিন্তু দেখলাম অরূপ বিশ্বাস কোনো ভালো কাজই হতে দিচ্ছেন না। কেন? কারণ প্রতিমন্ত্রীর পদটা আমাকে শুধু ললিপপ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। আমাকে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। স্পোর্টস ডিপার্টমেন্টে চা-বিস্কুট খাওয়া ছাড়া আমার কোনো কাজ ছিল না।’বাংলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বিশেষভাবে ২০২৫ সালে লিওনেল মেসির বিতর্কিত কলকাতা সফরের প্রসঙ্গ তোলেন। পশ্চিমবঙ্গের ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক হতে পারত এমন অনুষ্ঠানটি বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়, যখন মেসি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেন্যু ছেড়ে চলে যান। অনুষ্ঠান পরিচালনার ব্যর্থতা নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং তার জেরে অরূপ বিশ্বাসকে সাময়িকভাবে পদত্যাগও করতে হয়েছিল।তিওয়ারি জানান, তিনি আগেই পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছিলেন। আরও পড়ুন: মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেলেন কোহলির সাবেক সতীর্থ আমানপ্রীততিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই মেসির ঘটনাটা দেখেছেন। আমি আগেই জানতাম পরিবেশটা কেমন। প্রতিটি ধাপে আমাকে অপমান করা হতো, মঞ্চে ঠিকমতো ডাকত না। এমনকি পুরস্কার বিতরণীতেও আমি মাঠে গিয়েছিলাম, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ডাকা হয়নি। ওরা আমার উপস্থিতিও সহ্য করতে পারত না।’ ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে ১২টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মনোজ। ছবি: বিসিসিআইভারতীয় জাতীয় দলের এই সাবেক ক্রিকেটার যোগ করেন, ‘বারবার এই অভিজ্ঞতার পর বুঝেছিলাম, সেখানে গেলে আমাকে অপমানই করা হবে। তাই মেসি যখন এসেছিলেন, আমি মাঠে যাইনি। আমি জানতাম এমন ঘটনাই ঘটবে।’বিশ্বের সামনে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করেন।তিওয়ারির ভাষায়, ‘অরূপ বিশ্বাসের কারণেই আমাদের রাজ্য ও গোটা ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা ঠিকমতো মেসিকে দেখতে পারেননি, কারণ মেসি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই চলে গিয়েছিলেন। এত বড় সুযোগ নষ্ট হয়েছে শুধুমাত্র অরূপ বিশ্বাসের জন্য।’শুধু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, তিওয়ারির অভিযোগ রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসনের গভীর অচলাবস্থার দিকেও ইঙ্গিত করছে। তার দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগতের যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলার তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চাইলেও তা বাধার মুখে পড়ে।তিনি জানান, জামাইকান স্প্রিন্ট কিংবদন্তি ইওহান ব্লেককে পশ্চিমবঙ্গে এনে একটি ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স' গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ৭০০ কোটি টাকার ক্রীড়া বাজেটের মধ্যে মাত্র ৫ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল এই প্রকল্পে। কিন্তু সেই প্রস্তাবও নাকচ করে দেওয়া হয়।তিওয়ারি বলেন, ‘আমার নিজের যোগাযোগের মাধ্যমে আমি ইওহান ব্লেককে বাংলায় এনে একটি সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। তিনি বিশ্বখ্যাত ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলিট, উসাইন বোল্টের সঙ্গে অলিম্পিক রিলে স্বর্ণজয়ী। আমি যখন এই প্রস্তাব অরূপ বিশ্বাসের কাছে নিয়ে যাই, তিনি অনুমতি দেননি।’ আরও পড়ুন: আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য নিউজিল্যান্ডের দল ঘোষণাতিনি আরও বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, “অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলুন।” আমার ওপরে থাকা ক্রীড়ামন্ত্রী নিজেকে অনিরাপদ মনে করেছিলেন বলেই এই প্রস্তাব বাতিল করেন। এতে আমার মন ভেঙে যায়।’তিওয়ারির মতে, আধুনিক ক্রীড়া নীতির অভাবেই বাংলার প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘অন্য রাজ্যের ক্রীড়া নীতির সঙ্গে আমাদের রাজ্যের নীতির তুলনা করলে পার্থক্যটা বোঝা যাবে। আমরা ছেলে-মেয়েদের অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া আটকাতে পারিনি।’
Go to News Site