Jagonews24
স্বাদ, গুণগত মান ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়ে মাগুরার লিচু আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। জেলার হাজরাপুর এলাকার লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর খ্যাতি আরও বিস্তৃত হয়েছে দেশজুড়ে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে এ ফল। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় লিচুর ফলন কিছুটা ভিন্নতর হলেও সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোথাও বাম্পার ফলন, কোথাও তুলনামূলক কম—এমন চিত্র থাকলেও চাষিদের মুখে আছে স্বস্তির হাসি। জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলায় গড়ে উঠেছে তিন হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক লিচু বাগান। যা এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দেশি জাতের পাশাপাশি বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচুর চাষও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। লিচু মৌসুমকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাগান পরিচর্যা থেকে শুরু করে সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ—সবখানেই তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। আরও পড়ুনমেহেরপুরে ৮০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ, বাম্পার ফলনের আশা স্থানীয় শ্রমিক মোছা. আলেয়া বেগম জানান, মৌসুমে নিয়মিত কাজ পাওয়ায় তাদের সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। বাগান মালিক মো. বিল্লাল হোসেন আশাবাদী, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে এ বছর লাভজনক মৌসুম পার করা সম্ভব। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আগাম লিচুর দাম সন্তোষজনক। বর্তমানে দেশি লিচু প্রতি শত বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা চাষিদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলায় এ বছর ৫৩১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা আছে বলে আশা করা হচ্ছে। আরও পড়ুনঈশ্বরদীতে লিচুর মুকুল থেকে রেকর্ড পরিমাণ মধু উৎপাদন মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘এ বছর লিচুর উৎপাদন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা আরও লাভবান হবেন।’ সব মিলিয়ে উৎপাদন কিছুটা কম-বেশি হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে মাগুরার লিচু এ মৌসুমে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এসইউ
Go to News Site