Jagonews24
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে সকালে কলেজে আসেন মুফতি আমির হামজা। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের মুখে কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করছিলেন। এমপি আমির হামজা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মঞ্চে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। এসময় ব্যানার হাতে নিয়ে মঞ্চের পাশে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে আমির হামজাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত এমনকি আমির হামজা যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন, সেসময়ও শিক্ষার্থীরা জোরে জোরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যের একপর্যায়ে এমপি আমির হামজা বলেন, ‘আমি আনন্দও পেয়েছি আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। কারণ এখানে গাছ কাটার যে বিষয়টা শুনলাম, আমাদের শিক্ষক পরিষদের শ্রদ্ধাভাজন স্যার যিনি বলছিলেন, আসলে গাছ কে বা কারা কেটেছে এটা তদন্তের মাধ্যমে বের করেন। কিন্তু বাকি যেগুলো হচ্ছে, এগুলোকেও তদন্ত করা দরকার। বাকি যারা যা করছেন মনে করছেন, আমি লেবাস পরে আছি। মনে করছেন আমি হুজুর, আমি হুজুর। আমি হুজুর না। আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাবো আজকে। যেয়ে আপনাদের যা করা লাগে আমি তাই করবো।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে কয়জনের তালিকা আমার কাছে আছে অলরেডি, এরা এই শিক্ষা ভবনটা নষ্ট করার জন্য। এর পেছনে কারা আছে আমি তাও জানি। আমি তাদের নামও দেবো, নালিশ একেবারে ওপরে। দেখি আপনারা কতদূর পারেন।’ প্রায় ৬ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড বক্তব্য রাখেন তিনি। ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করার পর কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এসময় কলাপসিবল গেট আটকিয়ে বাইরে পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু সময় পরে এমপি আমির হামজা পুলিশের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি আমির হামজা বলেন, ‘এমন কিছু না। সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে গেছি।’ তিনি বলেন, ‘কলেজের গাছ কাটা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন শেষে কলেজের প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালদের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। আমি বলেছি, খেলা চলাকালীন এসব ঝামেলার দরকার নেই।’ এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এসময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবেিএমপিকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। ওসি বলেন, এমপি আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তার সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান। এদিকে মানববন্ধনে দাঁড়ানো কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপকালে তারা অভিযোগ করেন, কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশেই বড় খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে গাছ কেটে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি শিক্ষক কাউন্সিলের কোনো মিটিং ছাড়াই তিনি একক সিদ্ধান্তে গাছগুলো হত্যা করেছেন। এমপি আমির হামজাকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা বলেন, তিনি (এমপি আমির হামজা) গাছ কাটার বিচার না করে কীভাবে খেলার উদ্বোধন করতে এলেন? তাই আমরা আমাদের ভাষায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। কলেজ সূত্র জানায়, কলেজের বিশাল এই খেলার মাঠ বাদ রেখেই আন্তঃবিভাগীয় (কলেজের নিজস্ব বিভাগের মধ্যে) ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নামে প্যান্ডেল তৈরির জন্য ৪ মে রাতের আঁধারে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ২০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা মিলে তাদের নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন গাছগুলো। এমনকি শিক্ষকরা নিজেরাই পালা করে নিয়মিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলেন। রাতের আঁধারে এসব গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কলেজে এসে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেন তারা। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম
Go to News Site