Somoy TV
যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী ও কুখ্যাত শিশু যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ করেছে আদালত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বুধবার নোটটি প্রকাশ করা হয়।গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, জেফরি এপস্টেইনের লেখা একটি সুইসাইড নোট খুঁজে পেয়েছেন তার এক সাবেক কারাসঙ্গী। নোটটি প্রায় সাত বছর ধরে তার সাবেক এক কারাসঙ্গীর মামলার সিল করা একটি নথির মধ্যে লুকানো ছিল। ফলে এটি এপস্টেইনের মৃত্যু সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত এড়িয়ে গিয়েছিল। চারটি হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত আসামি নিকোলাস টরটাগ্লিওনে ও এপস্টেইন একসঙ্গে কারাগারে ছিলেন। টরটাগ্লিওনে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, সুইসাইড নোটটি আইনি কাজে ব্যবহৃত হলুদ রঙের একটি প্যাডে লেখা ছিল এবং একটি বইয়ের ভেতরে ভাজ করে রাখা ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনের ব্যর্থ আত্মহত্যার চেষ্টার পর টরটাগ্লিওনে নোটটি খুঁজে পান। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আত্মহত্যা করেন জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। প্রথমদিকে এপস্টেইন অভিযোগ করেছিলেন যে, তার সেলমেট তথা কারাসঙ্গী টরটাগ্লিওনে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে পরে তিনি এই অভিযোগ দ্বিতীয়বার আর করেননি। পরে তিনি বলেন, কী ঘটেছিল তা তিনি মনে করতে পারছেন না। টরটাগ্লিওনে এপস্টেইনকে কোনো ক্ষতি করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত দ্বীপে এপস্টেইনের অদ্ভূত ‘মসজিদ’, মক্কা থেকে সংগ্রহ করেন গিলাফ-কিসওয়া প্রায় ছয় বছর পর গত বছর এক পডকাস্টে টরটাগ্লিওনে প্রথম এই কথিত সুইসাইড নোটের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নোটটিতে এমন কিছু লেখা ছিল: ‘এফবিআই আমাকে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছে, কিন্তু কিছুই পায়নি। তুমি চাও আমি এ নিয়ে কাঁদি?’ এরপর একটি হাসির চিহ্ন এঁকে লেখা ছিল, ‘বিদায় বলার সময় হয়ে গেছে।’ নিউইয়র্ক টাইমস এক ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন করে, যেন এই কথিত নোটটি প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর টরটাগ্লিওনের মামলার তত্ত্বাবধানকারী মার্কিন জেলা বিচারক কেনেথ কারাস নোটটি প্রকাশের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, নোটটি টরটাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছিল। এটা জনসাধারণের জানার অধিকারের আওতায় পড়ে এবং গোপন রাখার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বিচারক তার রায়ে আরও বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু এবং নোটটি নিয়ে দীর্ঘদিনের জনআলোচনার কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যুক্তিও এখানে প্রযোজ্য নয়। তবে বিচারক স্পষ্ট করেছেন, তিনি নোটটির সত্যতা যাচাই করেননি কিংবা এটি কীভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল, সেই বিষয়েও কোনো মূল্যায়ন দেননি। তার ভাষায়, ‘নোটটি সিলগালা করে রাখার মতো কোনো আইনি কারণ কেউ দেখাতে পারেনি।’ আরও পড়ুন: এপস্টেইন সংযোগ প্রকাশ্যে, দাভোস ফোরামের প্রধান ব্রেন্দের পদত্যাগ
Go to News Site