Collector
দেনমোহর নির্ধারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ কত | Collector
দেনমোহর নির্ধারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ কত
Somoy TV

দেনমোহর নির্ধারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ কত

মহান আল্লাহ নারী-পুরুষের চরিত্র পবিত্র ও নিষ্কলুষ রাখতে বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এর অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে দেনমোহর। দেনমোহর নারীর অধিকার। দেনমোহর পরিশোধ করা ইসলামের বিধান। দেনমোহর শুধু একটা অঙ্ক ধরে রাখার নাম নয়। বরং তা পরিশোধ করে দিতে হবে।দেনমোহরের মূল উদ্দেশ্য, নারীকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া। যখন কোনো পুরুষ স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে আসবে, তখন তাকে মর্যাদার সঙ্গে আনবে। এমন কিছু উপহার দেবে, যা তার মর্যাদা বাড়ায়। দেনমোহর এতো অল্প নির্ধারণ না করা যাতে মর্যাদার কোনো ইঙ্গিত না থাকে। আবার এতো অধিকও নির্ধারণ না করা, যা পরিশোধ করা স্বামীর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের কোনো সম্পর্ক নেই। কন্যা পক্ষ ধারণা করেন, উচ্চ মূ্ল্যের দেনমোহর ধার্য করা; যাতে ছেলের পরিবার সে টাকা কখনো দিতে না পারে। তাহলে মেয়েও সুখে থাকবে। কখনো বিয়ে বিচ্ছেদ হবে না। পবিত্র কোরআনে দেনমোহরের আলোচনা ইসলাম স্বভাবজাত ধর্ম। মানুষের সব চাহিদার সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে ইসলামে। তিনি বলেন, فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ۚ فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تَعۡدِلُوۡا فَوَاحِدَۃً তোমরা বিয়ে করো তোমাদের পছন্দের নারীদের থেকে, দুজন অথবা তিনজন অথবা চারজন; কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে তোমরা ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করতে পারবে না, তাহলে মাত্র একজন। (সুরা নিসা, আয়াত: ৩) আরও পড়ুন: ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি আদায় হবে? দেনমোহর সম্পূর্ণ নারীর অধিকার। এ অধিকার খর্ব করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, وَ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الۡمُؤۡمِنٰتِ وَ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ اِذَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡهُنَّ اُجُوۡرَهُنَّ مُحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ وَ لَا مُتَّخِذِیۡۤ اَخۡدَانٍআর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো। যদি তোমরা তাদের দেনমোহর প্রদান করো বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। (সুরা মায়েদা. আয়াত : ৫) দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ কেউ চাইলে স্ত্রীকে মোটা অঙ্কের দেনমোহর দিতে পারবেন মহান আল্লাহ বলেন,  لِیُنۡفِقۡ ذُوۡ سَعَۃٍ مِّنۡ سَعَتِهٖ ؕ وَ مَنۡ قُدِرَ عَلَیۡهِ رِزۡقُهٗ فَلۡیُنۡفِقۡ مِمَّاۤ اٰتٰىهُ اللّٰهُবিত্তবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবন-জীবিকা সীমিত, আল্লাহ যা দান করেছেন সে তা থেকে ব্যয় করবে...। (সুরা তালাক, আয়াত : ৭)। দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। তবে দেনমোহর নির্ধারণে নারীর সম্মান ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি পুরুষের আর্থিক সঙ্গতির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেক জায়গায় দেখা যায়, দেনমোহর নির্ধারণে পুরুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করা হয় না। পুরুষের সামর্থ্যের বাইরে আকাশচুম্বী দেনমোহর ধার্য করা হয়। যা কস্মিনকালেও যৌক্তিক নয়। ইসলামি শরিয়তের মেজাজের বিপরীত। আরও পড়ুন: সুস্থ থাকতে নবীজি সব সময় যে দোয়া পড়তেন  দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারিত নয়। তবে সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারিত। সর্বনিম্ন পরিমাণের কমে দেনমোহর ধার্য করা যাবে না। অনেকে নিজেকে খুব বেশি উদার প্রমাণ করার জন্য দেনমোহর ছাড়াই বিয়ে করেন। এটা খামখেয়ালিপনা। ইসলামি শরিয়তের বিধান হলো- বিয়েতে সর্বনিম্ন দেনমোহর ১০ দিরহাম। অর্থাৎ ৩০.৬১৮ গ্রাম রুপা। ১০ দিরহামের কম পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণে স্ত্রী রাজি হলেও তা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে না।  নবীজি সাল্লাহল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,  ১০ দিরহামের কম কোনো দেনমোহর নেই।’ বায়হাকি শরীফ, ৭/২৪০)। বাজারের তারতম্যের ভিত্তিতে পৌনে তিন ভরি খাঁটি রুপার মূল্য যখন যে হারে হয়- দেনমোহরের সর্বনিম্ন মূল্যও তখন তা হবে। স্ত্রীর বংশ ও তার সমমানের নারীদের দেনমোহরের পরিমাণ বিবেচনা করাও উচিত। (বাদায়েউস সানায়ে : ২য় খণ্ড, ২৭৫ পৃষ্ঠা)। দেনমোহরে স্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দ দেনমোহর যে শুধু টাকা বা রুপা দিয়ে পরিশোধ করতে হবে, এমনটা নয়। এক্ষেত্রে স্ত্রীর পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো কিছু দিতে পারবেন যেমন, গয়না, গাড়ি, বাড়ি, জমি, বই-পুস্তক দিয়েও দেনমোহর আদায় করা যায়। কিন্তু ওই জিনিসটি যদি স্ত্রী মোহর হিসেবে গ্রহণ না করতে চায়, তাহলে সে তা ফেরত দিতে পারবে। যেমন: কেউ তার স্ত্রীকে একটি দামি ঘড়ি মোহর হিসেবে গিফট করতে চাইল; কিন্তু স্ত্রীর তা পছন্দ হয়নি বা এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই, তাই সে তা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৫/২৮) মোহরে ফাতেমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.)-কে হযরত আলি (রা.) সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সময় যে দেনমোহর নির্ধারণ করেছিলেন, তাকেই মোহরে ফাতেমি বলে। এর পরিমাণ হলো ৫০০ দিরহাম। আধুনিক হিসেবে ১৩১.২৫ তোলা বা ১.৫৩০৯ কিলোগ্রাম রূপা। এক দিরহামের ওজন হলো ৩.০৬১৮ গ্রাম। বর্তমান বাজারে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ১ হাজার ৭০০ টাকা হলে মোহরে ফাতেমির মূল্য হবে ২ লাখ ২৩ হাজার ১২৫ টাকা। তবে মনে রাখতে হবে, বিভিন্ন সময় রূপার দাম ওঠানামা করে। তাই, অবশ্যই যখন যেমন দাম হবে সে অনুযায়ী কম বেশি হবে। আরও পড়ুন: ওয়াকফ ও অসিয়তের পার্থক্য বিয়ের সময় মোহরে ফাতেমি দেওয়া আবশ্যক নয়। কোনো স্বামীর যদি মোহরে ফাতেমি নির্ধারণের মতো আর্থিক সচ্ছলতা না থাকে তাহলে তার সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। স্বামীর সামর্থ্যের বাইরে মোহর ধার্য করা ইসলামের শিক্ষা বহির্ভূত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাবধান, তোমরা নারীদের মোহরানা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। যদি মোহরানা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা দুনিয়াতে সম্মানের বিষয় হত কিংবা মহান আল্লাহর কাছে তাকওয়া হত তাহলে তোমাদের নবী তা করতেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১১৪)

Go to News Site