Collector
পাগলিটাও মা হয়েছেন, বাবা হয়নি কেউ | Collector
পাগলিটাও মা হয়েছেন, বাবা হয়নি কেউ
Somoy TV

পাগলিটাও মা হয়েছেন, বাবা হয়নি কেউ

পাগলিটাও মা হয়েছে, তবে বাবা হয়নি কেউ। পাগলি বলে যায়নি ছেড়ে, প্রসব ব্যথার ঢেউ। নিলাদ্র নাজিমের জনপ্রিয় কবিতার এই লাইন যেন মিলে গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে নারীর ক্ষেত্রে।বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সকাল বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। সদ্য জন্ম নেয়া এই নবজাতকের পিতৃপরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর নাম লাফি (২৫)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে ঘুরে বেড়ান। তিনি নিজের নাম ছাড়া বিস্তারিত কোনো পরিচয় জানাতে পারেন না; শুধু এটুকু বলতে পারেন, তার বাড়ি বিয়ানীবাজার। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে বাজারের একটি চায়ের দোকানেই তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং মা ও নবজাতককে প্রাথমিক সহায়তা দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদ মিয়ার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় মানবিক সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা এবং তাদের সহযোগিতার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি জানার পর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক সংগঠন ‘বাতিঘর’-এর সঙ্গেও ওই নারীর বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। আরও পড়ুন: যৌতুকের জন্য গৃহবধূর চুল কাটার ঘটনায় স্বামী গ্রেফতার ইউএনও বলেন, ‘নবজাতক ও ওই নারীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাদের দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও নবজাতকের সার্বিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’ সন্তানের পিতৃপরিচয়ের বিষয়ে তিনি জানান, সন্তান প্রসবের পর এখন পর্যন্ত কেউ এই সন্তানের পিতার দায়িত্ব নেননি। ভবঘুরে ভারসাম্যহীন ওই নারীও বলতে পারছেন না সন্তানের পিতা কে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক সংগঠন ‘বাতিঘর’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ভবঘুরে মা এবং তার সন্তানের চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা নেব। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারী সরাইল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আসেননি।’

Go to News Site