Somoy TV
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ নামে নতুন দুটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক এ দাবি পূরণের খবরে পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টার দিকে রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল করেন এবং একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। এই বৈঠকে দেশের আরও কয়েকটি উপজেলা পুনর্গঠন ও সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরি’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি ও সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। রুহিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রুহিয়াকে উপজেলা করার দাবিতে তারা নানা সময় স্মারকলিপি দিয়েছেন, মানববন্ধন করেছেন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তে তাদের সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের দ্বার খুলেছে। খুব দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপজেলা পর্যায়ের সব সেবা পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এতে তাদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি অনেক কমে যাবে। আরও পড়ুন: বগুড়া সিটি করপোরেশন ও নতুন ৫ উপজেলা গঠন ভুল্লী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ভুল্লী উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি অনেক গতিশীল হবে। নতুন নতুন সরকারি অফিস, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বারবার এই অঞ্চলের মানুষের দাবি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতার ফলেই আজ আমরা এই সুখবর পেয়েছি। নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সব খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ এদিকে, নতুন উপজেলার ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আনন্দ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই এটিকে এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
Go to News Site