Somoy TV
কচ্ছপের গতিতে আয় বাড়লেও ব্যয়ের গতি যেন খরগোশের মতো ছুটছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে হিসাব মেলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে ভোক্তাদের।বেতনের সঙ্গে বাজারের খরচ মেলাতে না পেরে প্রতিদিনই হতাশা নিয়ে বাজারে যাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ মাসে কিছুটা কমার পর এপ্রিলে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতির হার, যার মূল চাপ এসেছে খাদ্যপণ্যের দামে। তথ্য অনুযায়ী, মাস ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সবজি, মাছ ও মাংসের উচ্চ দাম এখনো ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। মৌসুমি ঘাটতি ও পরিবহন ব্যয় বাড়াকে সবজির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গত মাসে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়ায় বাড়তি চাপ পড়েছে ভোক্তার ওপর। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ার অজুহাতে লবণ, পোলাও চাল, সয়াবিন তেল ও চিনিসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ানো হচ্ছে। আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত, ব্যয় কত? অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এদিকে বাজারে ডিম ও মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও সোনালি মুরগির দাম গিয়ে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫০ টাকায়। আর ডিমের ডজন বিক্রি হয় ১৩০ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াকে কেন্দ্র করে যেন ব্যবসায়ীরা ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করেন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে ক্যাব। সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, একটা সংকট কাটতে না কাটতেই আরেকটা সংকট চলে আসছে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, সীমিত আয়ের মানুষ যেন জীবিকা নির্বাহে অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়ে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে মোট মজুরি বাড়ার হার সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।
Go to News Site