Collector
যানজট-জনজটে ক্লান্ত ঢাকা, এতো চাপ সইবে কী করে? | Collector
যানজট-জনজটে ক্লান্ত ঢাকা, এতো চাপ সইবে কী করে?
Somoy TV

যানজট-জনজটে ক্লান্ত ঢাকা, এতো চাপ সইবে কী করে?

ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ মানুষের চাপের পাশাপাশি যানজটে দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। তাই রাজধানীতে আর বড় না করে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা করতে হবে পদ্মা ও মেঘনার ওপারকে কেন্দ্র করে। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের প্রবণতা বাদ দিয়ে সবুজ বনায়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে বলেও মত বিশ্লেষকদের।কয়েকশ বছরের পুরোনো বাংলার রাজধানী ঢাকা বর্তমানে প্রায় পৌনে ৩ কোটি মানুষের বসবাসের নগরী, যা জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এই নগরী এখন জনচাপে ক্লান্ত। অথচ লক্ষ্য ছিল একটি তিলোত্তমা নগরী গড়ে তোলা। বিশ্লেষকদের মতে, একটি আদর্শ শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বসবাস থাকা উচিত। মোট এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশ রাস্তা, ২৫ শতাংশ সবুজ বনায়ন এবং ১০ শতাংশ জলাশয় থাকা প্রয়োজন। আরও পড়ুন: ঢাকা শহরের একেক এলাকায় একেক তাপমাত্রা, পার্থক্য ৫ ডিগ্রিরও বেশি! তবে বাস্তবে এই মেগাসিটিতে সড়ক রয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ, সবুজায়ন ৫ শতাংশ এবং জলাশয়ও ৫ শতাংশ। এসব ঘাটতির মধ্যেও প্রতি বর্গকিলোমিটারে এখানে বসবাস করছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ। ফলে নগরীটি কার্যত জনজটে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীরা বলছেন, জনসংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। এত বেশি মানুষ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। কর্মসংস্থানের কারণে এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসছে প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মানুষ, যা বছরে প্রায় ৫ লাখের মতো। অথচ এই নগরীর ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১ কোটি মানুষের। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে নতুন ভবন। আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ২০০৮ সালের নতুন বিধিমালার পর ভবন নির্মাণের কাঠামো ও জনঘনত্বের হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়। আগে যেখানে সরু ১০-১২ ফুট রাস্তার পাশে ৩-৫ তলা ভবন ছিল, সেখানে এখন ১০-১২ তলা ভবন তৈরি হচ্ছে, যা পরিকল্পনাকে আরও বিশৃঙ্খল করেছে। জনজটের পাশাপাশি বেড়েছে যানজটও। এক দশক আগে এই শহরে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, যা এখন নেমে এসেছে প্রায় ৫ কিলোমিটারে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আরও পড়ুন: ডিএনসিসি সম্প্রসারণের এক দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি বর্ধিত ওয়ার্ডগুলো বিশ্লেষকদের মতে, জনজট, যানজট এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ-সব মিলিয়ে ঢাকা এখন চাপের মধ্যে আছে। বাসা, অফিস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজধানী। ফলে নগরীটি এখন কার্যত লাইফ সাপোর্টে চলছে। জাবির নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, অন্য এলাকায় আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে ঢাকামুখী চাপ কমে আসবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে, তাহলেই ঢাকামুখী জনস্রোত হ্রাস পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, জনজটের কারণে নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পাচ্ছে না। এর সঙ্গে বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ তো আছেই। বাড়ছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও। তাই এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে, যাতে তিলোত্তমা ঢাকা ধীরে ধীরে বসবাসযোগ্য নগরীতে ফিরে আসতে পারে।

Go to News Site