Somoy TV
টিকটকে প্রেমের সম্পর্ক হওয়ার চার বছর পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান এক নারী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জননী। সন্তানদের বাবাকে ছেড়ে দিয়েই তিনি অন্ত চক্রবর্তী নামের যুবকের সাথে বিয়েতে আবদ্ধ হতে চান। তবে তারা দুইজন দুই ধর্মের। মিতু আক্তার নামের ওই নারী বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত থেকে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেন।ঘটনাটি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরের। জানা গেছে, গত ২০২২ সালে তাদের টিকটকে পরিচয়। অন্ত চক্রবর্তী ঢাকার সাভারে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। এরপর দুই ছেলে মেয়ে ও স্বামী রেখে মিতু অন্তুর সাথে সাভারে গিয়েই একত্রে বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের মধ্যে দূরত্ব থাকায় তারা আলাদা হন। এরপর ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী থানার দুলদি লক্ষিপুর গ্রামের বাসিন্ধা মিতু আক্তার নেত্রকোনা দুর্গাপুরে কাকৈরগড়া গ্রামে অন্তু চক্রবর্তীর বাড়িতে চলে আসেন। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বাড়ি যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ওই নারী বিয়ে না করা পর্যন্ত অন্তুর বাড়িতে অবস্থানে অনড়। আরও পড়ুন: দুই সন্তানের বাবাকে বিয়ের দাবিতে এক সন্তানের মায়ের অনশন এদিকে এই ঘটনায় বিব্রত কাকৈরগড়া গ্রামের অশিত চক্রবর্তীর বাড়ির সকলেই। অন্তু অশিত চক্রবর্তীর ছেলে। এদিকে ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে মিতু আক্তার জানান, গত ২০২২ সালে টিকটকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে কথাবার্তার একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় অন্তু চক্রবর্তী সাভারের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালে মিতু আক্তার সেখানে গেলে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। মিতু আরও জানান, এর আগে তার একটি সংসার ছিল এবং সেখানে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তবে প্রেমের টানে তিনি অন্তুর কাছে চলে এসেছেন। তার দাবি, অন্তু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে তার আগের বিয়ের বিষয়টি অন্তুর এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানাজানি হলে তাদের মধ্যে দূরত্ব ও বিরোধ তৈরি হয়। মিতু আক্তার বলেন, আমি তাকে আগেই বলেছিলাম আমার স্বামী-সন্তান আছে। তখন সে বলেছিল, এসব তার সমস্যা না। আমার ১০টা বা ২০টা সন্তান থাকলেও সে আমাকে নিয়েই থাকবে। সে কখনও আমার ধর্ম নিয়েও আপত্তি করেনি। আমি নামাজ পড়তাম, কোরআন পড়তাম, সেও শুনতো। আমার টিকটক ও ইমু আইডিতেও ‘মিতু আক্তার’ নামই ছিল। এই নাম কি হিন্দুর হতে পারে? তিনি আরও বলেন, আমি এখন তার বাড়িতে এসেছি। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি মরে যাবো। এদিকে অন্তু চক্রবর্তী জানান, তিনি জানতেন না মিতু আক্তার মুসলিম ও বিবাহিত। আরও পড়ুন: বিয়ের দাবিতে অটোরিকশা চালক প্রেমিকের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশন তিনি বলেন, হিন্দু পরিচয়ে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছিল। পরে জানতে পারি সে বিবাহিত এবং তার সন্তানও আছে। এসব জানার পর আমি সম্পর্ক থেকে সরে আসি। এখন সে বাড়িতে এসে বিয়ের দাবি করছে। কিন্তু আমি তাকে বিয়ে করবো না। সে মুসলিম, আমি হিন্দু। আর আগের দুই সন্তান ও স্বামীকে যখন ছেড়ে আসতে পেরেছে। এখন আমাকেও ছেড়ে যেতে পারবে। অন্তুর বাবা অশিত চক্রবর্তী জানান, ছেলে চাকরি করতে গিয়েছিল সেখানে এসব মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আমি জানতাম না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনগতভাবে এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, আমরা খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠিয়েছি। ওই নারীকে বুঝানো হয়েছে বাড়ি গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখানে কারো পক্ষে-বিপক্ষে থাকার সুযোগ নেই।
Go to News Site