Collector
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা-যমুনার তীরে ভাঙন | Collector
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা-যমুনার তীরে ভাঙন
Somoy TV

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা-যমুনার তীরে ভাঙন

উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রমত্তা পদ্মা ও যমুনা নদীতে অসময়ে দেখা দিয়েছে ভাঙন। নদীর বাম তীর ঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় একের পর এক আবাদি জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। ভাঙনের মুখে গবাদিপশু ও সহায়-সম্বল নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের নিঃস্ব মানুষগুলো।মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার নদীর বাম তীরবর্তী মালঞ্চি, কুশিয়ার চর, গৌরবিদ্ধা, তেওতা, বাঁচামারা, বাগুটিয়া, চরকাটারি এবং জিয়ানপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।  গত বছর কয়েকটি এলাকায় অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে আপৎকালীন কাজ করা হলেও সেগুলো এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে। এ অবস্থায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের একমাত্র দাবি একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ। ভাঙনের শিকার পদ্মা পাড়ের বাসিন্দা রফিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিন তিনবার বাড়ি ভেঙে গেছে, আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন কোথায় যাব? ছোটবেলা থেকেই শুনছি বাঁধ হবে, তবে তা শুধুই আশ্বাস।’ আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘জীবন শেষ হয়ে এল, বয়স এখন ৫০ বছর। নদী ভাঙনের সঙ্গেই বসবাস করছি। সবকিছুই শেষ, একটুখানি বাড়ি আছে তাও ভেঙে যাচ্ছে।’ খাতুন নামের স্থানীয় আরেক নারী বলেন, ‘ভোট এলেই সবাই বলে ভোট দিন। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না।’ আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩ মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান জানান, জেলার ১৪টি স্থানে পদ্মা ও যমুনার বাম তীরে বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপাতত ৯০ মিটার এলাকার কাজ পেয়েছি। এই বরাদ্দ দিয়ে কুশিয়ার চরে ৬০ মিটার ও শিবালয়ের তেওতায় ৩০ মিটার অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে আপৎকালীন রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি বরাদ্দ সাপেক্ষে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও কাজ করতে পারব।’ স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি জানান, স্থায়ী বাঁধের জন্য ইতোমধ্যে চারটি প্রকল্প সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর ও মঈনুল ইসলাম খান শান্তর সাথে কথা হয়। তারা বলেন, আপাতত আপৎকালীন কাজ করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাম তীর রক্ষায় সরকার কাজ করবে। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত তা বাস্তবায়িত হবে।

Go to News Site