Jagonews24
চুয়াডাঙ্গায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধে সালিশ বৈঠকের আগেই সংঘর্ষ ও মারামারিতে আলিম উদ্দিন (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের মানিকডিহী গ্রামে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজনের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করেছে। নিহত আলিম উদ্দিন শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে। নিহতের ভাই কালু মণ্ডল জানান, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায়িক কাজে গোলাম রসুলের ছেলে জিয়ার কাছ থেকে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও তা পরিশোধ করা হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে নতুন করে সালিশের আয়োজন করা হয়। জিয়া, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে বসে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন ও আরিফের ছেলে আরাফাত। তারা হঠাৎ করেই আলিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। কালু মণ্ডল বলেন, ‘তারা আমার ভাইকে তলপেটে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজ হেফাজতে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন বলেন, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ আমার বাসভবনে এসেছিল। সালিশ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কিল-ঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা যান বলে জেনেছি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলিম উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুসাইন মালিক/এফএ/এএসএম
Go to News Site