Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শনিবার (৯ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোররাত ৪টা। তখনো চারদিকের অন্ধকার কাটেনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনের সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। রিকশায় বসা শিল্পী বেগম (৪০)। তার চোখে-মুখে উদ্বেগ। ব্যাগে শাশুড়ির জরুরি চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা। কয়েক মিনিট আগে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল থেকে তার স্বামী ফোন করে জানিয়েছেন, মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক, দ্রুত টাকা নিয়ে আসতে হবে। তবে হাসপাতালের দোরগোড়ায় পৌঁছার আগেই তার পথ আগলে দাঁড়ায় দুটি মোটরসাইকেল। তাতে ছয়জন সশস্ত্র যুবক। মুহূর্তেই ঝিলিক দিয়ে ওঠে ধারালো অস্ত্র। বাধা দিতেই শিল্পী বেগমের পেট ও পায়ে কোপ বসিয়ে দেয় তারা। রক্তাক্ত শিল্পী বেগম যখন রিকশায় লুটিয়ে পড়েন, ছিনতাইকারী সশস্ত্র যুবকরা তখন টাকা আর মোবাইল নিয়ে উধাও হয়ে যায়।পাচারের শিকার নারীদের বড় অংশের গন্তব্য মুম্বাই - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ভালো কাজের প্রলোভনের শিকার হয়ে অনেক নারী অবৈধভাবে ভারতে পাড়ি জমায় দালাল বা মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে। বিভিন্ন পথ ঘুরে তাদের বড় অংশের গন্তব্য মহারাষ্ট্রের মুম্বাই। গত দুই বছরে বাংলাদেশি নারীদের মুম্বাইয়ে অবৈধভাবে যৌনকাজে বাধ্য করার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়ার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ থেকে মুম্বাইয়ে নারী পাচারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পাচার হওয়া নারীদের বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়; কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ তাদের বেশির ভাগই অবৈধভাবে ভারতে যায়।পুষ্টির ঘাটতিও হামে মৃত্যু বাড়াচ্ছে - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় দেশের অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুও বাড়ছে। শিশুরা ঠিক সময়ে ভিটামিন এ-ও পায়নি। শিশুদের মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টি শিশুদের অবস্থাকে বেশি নাজুক করে তুলেছে। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবারও হামে সাতটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।হাসপাতালই এখন রোগশয্যায় - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলো এখন নিজেরাই অসুস্থ। শয্যা নেই, যন্ত্রপাতি নষ্ট, জনবল সংকট, দালালের দৌরাত্ম্য-এসব ‘রোগে’ ধুঁকছে ঢাকার চারটি সরকারি হাসপাতাল। ঢাকা মেডিকেল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল (মিটফোর্ড), সোহরাওয়ার্দী ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র প্রায় একইরকম। ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিনগুণ বেশি রোগীর চাপ। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জীবন বাঁচানোর আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুমূর্ষু রোগীরা এখানে এসে পড়ছেন নতুন সংকটে। অনুমোদন ছাড়াই খোলা পরিবেশে পোড়ানো হচ্ছে চিকিৎসা বর্জ্য - দৈনিক বণিকবার্তায় প্রকাশিত খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রতিদিন দুই-চার টন মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য ধ্বংসে মানা হচ্ছে না পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার মৌলিক বিধি। নগরীর শতাধিক হাসপাতালের সংক্রামক বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সুলতান করপোরেশন’। প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। এমনকি নিয়ম না মেনে খোলা পরিবেশে চিকিৎসা বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ সক্ষমতার ইনসিনারেটর, পানি শোধনের জন্য ইটিপি, জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা ও বিশেষায়িত অবকাঠামোর ঘাটতি নিয়েই চলছে পুরো কার্যক্রম। প্রতিদিন যে পরিমাণ মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তার তুলনায় চসিকের ব্যবহৃত পুরনো ইনসিনারেটরের (উচ্চ তাপমাত্রার চুল্লি) সক্ষমতা অনেক কম। ফলে একদিকে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে কিছু বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রামক চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ভোগাতে পারে পশুর হাট - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিভিন্ন মহাসড়কের পাশে এবং কোথাও কোথাও সড়কের অংশ দখল করে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসে। এবার ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী মাসের পরের দিকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও কালবৈশাখী হতে পারে। এটি সড়কের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এবারও মহাসড়কে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জোর দিয়ে জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তেমন স্বস্তি পাচ্ছেন না।হাওরে বিপর্যয়, চাপে পড়তে পারে খাদ্য নিরাপত্তা - দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে শুধু বোরো মৌসুমে। এর মধ্যে সাতটি হাওর জেলা দেয় প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলোতে চলছে কৃষকদের হাহাকার। কারণ, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিস্তীর্ণ জমির আধা-পাকা ধান তলিয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার ৭৩ হেক্টর এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, ৮০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান তলিয়ে গেছে। এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন অঞ্চলে। এতে জাতীয় সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারাদেশের জন্যই সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা রয়েছে। চালের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই দাম স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। শতকোটি টাকার বিনিয়োগ হাওয়া - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদ এটি।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বহুল পরিচিত একটি ব্যবসা। বাংলায় ক্রিপ্টোকারেন্সির অর্থ হচ্ছে ‘গুপ্ত টাকা’। যে টাকা দেখা যায় না। ডিজিটাল দুনিয়ায় লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয় এটিকে। এই ব্যবসার আমেরিকাভিত্তিক একটি কোম্পানির নাম হচ্ছে এফএসপ্রো এআই। যেটি খুব জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশের একটি সিন্ডিকেট ওই কোম্পানির নামে গোপন অ্যাপস ব্যবহার করে বাংলাদেশের শত শত গ্রাহকের শতকোটি টাকা লুটে নিয়েছে। এখন বন্ধ করে দিয়েছে অ্যাপসও। প্রতারণার শিকার হওয়া সিলেটের এক ভুক্তভোগী সম্প্রতি এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত করছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। অভিযোগকারী নগরের টিলাগড়ের গোপালটিলার বাসিন্দা সুজিত কুমার দে। অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকান কোম্পানি এফএসপ্রো-এআই’র নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশের চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার উত্তর বগুলা গ্রামের শাহ আলম, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের বাসিন্দা সম্রাট হোসেন ও গোলাপগঞ্জের খাটকাই গ্রামের বাসিন্দা সোহান টিপু একটি সিন্ডিকেট গড়েন। তারাও নিজেদের ওই কোম্পানির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কর্মকর্তা দাবি করে টেলিগ্রাম গ্রুপে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দেন লোভনীয় অফারও।
Go to News Site