Somoy TV
আত্মহত্যা নয়, ত্রিভুজ প্রেমের জেরে কামরাঙ্গীরচরে মেসের রুমমেট সাব্বিরের হাতে খুন হয়েছেন ইয়াকুব। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।ফেসবুকে একটি নারী আইডির সঙ্গে দুই রুমমেটের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সন্দেহ, অবিশ্বাস আর প্রতিহিংসা থেকেই সাব্বির এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানায় কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। তবে যে ফেসবুক আইডিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা, সেটি ফেক হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের কালুনগরের ম্যাটাডোর শিল্প পার্কের কর্মচারী মেসের টয়লেটে পাওয়া যায় মোহাম্মদ ইয়াকুবের রক্তাক্ত মরদেহ। মেসটির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া এবং একটি মাত্র গেট থাকায় আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে হয়। ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা প্রহরী থাকায় ভেতরে অপরিচিত কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। এ কারণে শুরুতে বাসিন্দারা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই সন্দেহ করেন। মেসের একজন বাসিন্দা বলেন, প্রথমে আমরা ভাবছিলাম আত্মহত্যা ছাড়া কিছু নয়। এখানে কেউ এসে এমন কিছু করবে, সেটা কল্পনাও করা যায় না। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ দেখে অনেকেই প্রথমে আত্মহত্যা মনে করলেও আঘাতের ধরন দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় এটি হত্যাকাণ্ড। এরপর প্রশ্ন ওঠে, নিরাপত্তাবেষ্টিত এই মেসে কারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তদন্তে সন্দেহের তীর যায় মেসে থাকা কর্মীদের দিকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। হত্যার স্থান সিলগালা করে শুরু হয় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ। মেসে থাকা সবাইকে আলাদাভাবে জেরা করা হলেও প্রথমে কেউই মুখ খুলছিল না। পরে সাব্বির নামের রুমমেট মিথ্যা তথ্য দিতে থাকলে তাকে ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখনই বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাব্বির ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। এরপর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়। আরও পড়ুন: শ্রমিক হোস্টেলের টয়লেট থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু পরে সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয় এবং মেসের পেছন থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনা। জানা গেছে, কয়েক মাস আগে একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সাব্বিরের। বিষয়টি তিনি সহকর্মী ইয়াকুবের সঙ্গে শেয়ার করেন। তবে কিছুদিন পর সাব্বিরের প্রেমিকার ছবি ইয়াকুবের ফোনে দেখতে পান সাব্বির। এরপর থেকে সাব্বিরের কথিত প্রেমিকাও তাকে এড়িয়ে চলছিল। এতেই ক্ষিপ্ত হয় সাব্বির। মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও বলেন, সাব্বিরের ধারণা ছিল ওই ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ইয়াকুব তার সম্পর্ক নষ্ট করছে এবং তার প্রেমিকা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। এই ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে সে। পুলিশ জানায়, প্রতিশোধের তাড়না থেকে ইয়াকুবকে হত্যার পরিকল্পনা করে সাব্বির। গত ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব অসুস্থ থাকায় কাজে যাননি। সেই সুযোগে রাত ১টার দিকে তিনি টয়লেটে গেলে পেছন থেকে গিয়ে ব্লেড দিয়ে গলায় আঘাত করে সাব্বির। এরপর স্বাভাবিকভাবে ভোরে কাজে যোগ দেয় সে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তদন্তে নতুন মোড় নেয় যখন পুলিশ ধারণা করে, যে ফেসবুক আইডিকে কেন্দ্র করে ঘটনা ঘটেছে সেটি আসলে ফেক হতে পারে। কেউ ভুয়া আইডি ব্যবহার করে দুজনকে ফাঁদে ফেলেছে এবং আর্থিক লেনদেনও করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এখন সেই আইডির মালিকের খোঁজে তদন্ত চলছে। ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ওই ফেসবুক আইডি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত চলছে। এর পেছনে কারা রয়েছে তা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে এত বড় শিল্প এলাকার মেসে সিসিটিভি না থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের মতে, ক্যামেরা থাকলে হয়তো অপরাধটি আগেই ধরা পড়তে পারত। তবে হত্যার পর টনক নড়েছে; ক্যামেরা স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।
Go to News Site