Collector
সারাদিন ক্লান্ত লাগার কারণ হতে পারে সকালের খাবার | Collector
সারাদিন ক্লান্ত লাগার কারণ হতে পারে সকালের খাবার
Jagonews24

সারাদিন ক্লান্ত লাগার কারণ হতে পারে সকালের খাবার

সুস্থ থাকতে এবং সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের নাস্তার গুরুত্ব অনেক। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালের খাবার এড়িয়ে যান। কেউ তাড়াহুড়া করে শুধু এক কাপ চা বা কফি খেয়েই বেরিয়ে পড়েন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে দেরিতে সকালের নাস্তা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসগুলোই সারাদিনের ক্লান্তি, ঝিমুনি, অতিরিক্ত ক্ষুধা এবং এনার্জির ওঠানামার অন্যতম বড় কারণ। পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের শুরুতে শরীরকে এমন খাবার দিতে হবে যা ধীরে ধীরে শক্তি জোগাবে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখবে। ব্রেকফাস্ট কেমন হওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আদর্শ সকালের নাস্তায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকা জরুরি, প্রোটিন, জটিল কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ফাইবার। এই চারটি উপাদান একসঙ্গে শরীরে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে ছাড়তে সাহায্য করে। ফলে হঠাৎ করে এনার্জি বেড়ে যাওয়া বা দ্রুত কমে যাওয়ার সমস্যা হয় না। এতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং কাজে মনোযোগও ভালো থাকে। প্রোটিন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি হজমের গতি ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই সকালের নাস্তায় ডিম, দুধ, দই, বাদাম বা মুরগির মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। ঘরেই সহজে পাওয়া যায় এমন অনেক খাবার রয়েছে যা স্বাস্থ্যকর নাস্তা হতে পারে। স্যান্ডউইচ বাদামি পাউরুটি দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় স্বাস্থ্যকর স্যান্ডউইচ। ডিম, মুরগির মাংস বা বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ সকালের জন্য ভালো একটি খাবার। চাইলে লো-ফ্যাট পনির ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মেয়োনেজ ব্যবহার না করাই ভালো। ওটস ওটস বর্তমানে জনপ্রিয় একটি স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট। এতে ফাইবার ও প্রোটিন দুটাই থাকে। ওটস দিয়ে খিচুড়ি তৈরি করা যায়, আবার ফলের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের জন্যও ভালো। ফল ও বাদাম ফল খাওয়া অবশ্যই ভালো অভ্যাস, তবে শুধু ফল খেলে চলবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের সঙ্গে প্রোটিন বা ফাইবারযুক্ত খাবার যোগ করা জরুরি। যেমন: আপেলের সঙ্গে বাদাম, কলার সঙ্গে দই বা চিড়া। কারণ শুধু ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং কিছু সময় পর আবার হঠাৎ কমে যায়। এতে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। যেসব ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন অনেকেই সকালে শুধু চা বা কফির ওপর নির্ভর করেন। কেউ আবার প্যাকেটজাত বিস্কুট বা প্রসেসড খাবার খেয়েই নাস্তা শেষ করেন। এসব খাবার সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিতে পারে না।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়াও বড় ভুল। এতে শরীর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে, ফলে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এতে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাবার সকালের নাস্তায় না রাখাই ভালো। এগুলো দ্রুত এনার্জি দিলেও কিছু সময় পর শরীর আরও ক্লান্ত অনুভব করতে পারে। আরও পড়ুন:প্রতিদিন ২টি সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয় জানেন? গরমেও চাদর ছাড়া ঘুম হয় না কেন?   ব্রেকফাস্টের সঠিক সময় সময়মতো সকালের নাস্তা করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই ব্রেকফাস্ট করা উচিত। এতে শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় হয় এবং সারাদিন এনার্জি ভালো থাকে।বর্তমানে ট্রেন্ডি খাবারের ভিড়ে অনেকেই স্বাস্থ্যকর খাবারের মূল বিষয়টি ভুলে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া, সুষম এবং পুষ্টিকর নাস্তাই হতে পারে সুস্থ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি। সূত্র: ওয়েবএমডি ও হেলথ লাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া এসএকেওয়াই

Go to News Site