Somoy TV
বিরামপুরের খানপুর দক্ষিণ শাহবাজপুর গ্রামে গেলেই চোখে পড়বে উৎসুক মানুষের ভিড়। সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে ‘দিনাজপুরের মহারাজ’। নামে মহারাজ হলেও আদতে এটি একটি বিশালাকার ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। পাঁচ বছর বয়সী এই ষাঁড়টি দেখতে অনেকটা হাতির মতো। যার ওজন বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি (৩০ মণ)। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মালিক এর দাম হাঁকাচ্ছেন ২০ লাখ টাকা।হিলি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে বিরামপুর উপজেলার খানপুর এলাকার বাসিন্দা পেশায় চালক লুৎফর রহমান। পাঁচ বছর আগে তার বাড়ির পালিত গাভী থেকেই জন্ম নেয় এই বাছুরটি।লুৎফর রহমান জানান, জন্মের পর থেকেই বাছুরটি অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল। পরম মমতায় সেটিকে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে বাছুরটি বিশাল আকৃতি ধারণ করলে আদর করে তার নাম রাখা হয় ‘দিনাজপুরের মহারাজ’।নামের সঙ্গে মিল রেখে মহারাজের খাদ্যাভ্যাসও রাজকীয়। লুৎফর রহমানের মতে, তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে অন্তত ৮ থেকে ১০ ধরনের খাবার। দানাদার খাবারের পাশাপাশি মহারাজকে খাওয়ানো হয় কলা, আপেল, মালটা, তাজা ঘাস ও খড়।মালিক জানান, মহারাজের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। গত পাঁচ বছরে তার পেছনে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। লুৎফর রহমানের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম বাবু বলেন, মহারাজ আমাদের কাছে শুধু একটি গরু নয়, বরং আমাদের পরিবারের সন্তানের মতো। দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিশ্রম আর যত্নে সে আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।'আরও পড়ুন: কেজি দরে বিক্রি হবে ‘কালা বাবু’ ও ‘ধোলা বাবু’বিশালাকার এই ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন লুৎফর রহমানের বাড়িতে। স্থানীয়দের মাঝে মহারাজকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। অনেকে বিশাল এই প্রাণীর সঙ্গে সেলফি তুলতেও ভুলছেন না।বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার চক্রবর্তী জানান, লুৎফর রহমান একজন সফল খামারি। তিনি বলেন, শ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে তিনি ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি বড় করেছেন। ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের এই ষাঁড়টি জেলার অন্যতম বৃহৎ। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিকে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।'নতুন কেউ যদি এমন বড় পরিসরে খামার করতে চায়, তবে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে তাদের প্রয়োজনীয় উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
Go to News Site