Somoy TV
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। মাদারীপুরে তার গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।শনিবার (৯ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে বাবা-মা ও স্বজনরা তার মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি প্রথমে রাজধানীর মিরপুরের বাসায় নেয়া হয়। সেখান থেকে মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নেয়া হচ্ছে। শনিবার বাদ আসর মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। বৃষ্টিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে সকাল থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা ভিড় করছেন। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর খবরে সেখানে কবর খোঁড়ার কাজও চলছে। আরও পড়ুন: লিমন-বৃষ্টি হত্যা: হিশামের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আবেদনের সিদ্ধান্ত পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চরগোবিন্দপুর গ্রামের জহির উদ্দিন আকন্দের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তার বাবা একটি এনজিওতে চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর পল্লবী এলাকায় বসবাস করেন। সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান বৃষ্টি। সেখানে ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাদে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে লিমনের সাথে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নিখোঁজের আট দিন পর লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ। এর এক দিন পর ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা শেষে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ৩০ এপ্রিল বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামের এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। এদিকে বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তার ভাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান প্রান্ত।
Go to News Site