Somoy TV
গ্রীষ্মের প্রখর রোদে যখন চারপাশে অস্বস্তির ঝাঁঝ, তখন এই দহনময় ঋতুই আবার রঙিন ফুলের মেলায় ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া। চারপাশের শুষ্কতা যেন হার মানে এই বর্ণিল সৌন্দর্যের কাছে। পথ চলতি মানুষের চোখ আটকে যায় অপরূপ গ্রীষ্মফুলের মায়ায়।তপ্ত রোদে দগ্ধ নগর। কংক্রিটের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা ধুলা-দূষণ আর মানুষের অবিরাম ব্যস্ততার গল্পে এই শহর যেন এক অন্তহীন দৃশ্যপট। এসবের ফাঁকেই হঠাৎ ঝলকানির মতো চোখে ধরা দেয় অন্যরকম এক সৌন্দর্য। মনে হয়, এই নগরী শুধু লাল-নীল মিথ্যে কথারই নয়; এই শহর তার বুকজুড়ে লালন করে অপরূপ সৌন্দর্যও। মোহগ্রস্ত নাগরিক মানুষ একবার হলেও থমকে দাঁড়ায়, ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে যায় জীবনের পাওয়া-না পাওয়ার হিসেব। নগরজুড়ে ফুটেছে গ্রীষ্মের ফুল। অবাধ প্রকৃতি নয়, ইটের শহরের ফুলও কি কখনো কখনো মানুষকে ভাবুক করে তোলে? গতির শহরে অবিরাম ছুটে চলার একাকিত্বে ফুলগুলো তখন হয়ে ওঠে নীরব সঙ্গী। আরও পড়ুন: যানজট-জনজটে ক্লান্ত ঢাকা, এতো চাপ সইবে কী করে? কৃষ্ণচূড়ার রঙিন যৌবন, জারুলের বেগুনি আভা, সোনালুর স্নিগ্ধ সৌন্দর্য দাবদাহে পীড়িত রাজধানীতে যেন বসিয়েছে ফুলের জলসা। সেই জলসায় সামিল হয় মানুষও। কখনো ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নেয়, কখনো বা দু’চোখ ভরে রঙের উল্লাসে মেতে ওঠে। সাধারণ মানুষ বলছেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল এত পছন্দ; এত ভালো লাগে যে দেখে মনে হয় গ্রীষ্মকাল যেন আবার ফিরে ফিরে আসে। এত সুন্দর ফুল দেখলে দুই পাশের চোখের ক্লান্তি যেন হাওয়ায় উড়ে যায়। এই ফুলগুলো যদি না থাকতো তাহলে শহরটি আরও নিরাশ হয়ে যেত। আশেপাশে অনেক ফুল। অনেক প্রশান্তি লাগে। হঠাৎ আবার ফুলের জলসায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির ছন্দে তাল মিলিয়ে ঝরে পড়ে ফুলেরা। মন্ত্রমুগ্ধ মানুষের তখন আবেগতাড়িত পুষ্পস্নান। নগরের আনাচে-কানাচে ফুটে থাকা এসব গ্রীষ্মের ফুলের রয়েছে চেনা-অচেনা অগণিত নাম, অগণিত ডাক। যে নাম শুদ্ধ করে মানুষের মন, আবার কখনো ভাবুক করে তোলে আটপৌরে জীবনকেও। কেউ এই ফুলকে গ্রীষ্মের খরতাপের মাঝেও প্রকৃতির এক অনুপম উপহার মনে করেন। জীবনের নানা জটিলতাকে পাশে রেখে যদি ফুলে ভরা বৃক্ষের নিচে দাঁড়ানো যায়, তাহলেও তো মিলতে পারে মনের রসদ। তাই তো এই রঙিন ফুলগুলোকে উপভোগ করাই হোক প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতার অনুশীলন।
Go to News Site