Jagonews24
দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাত নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে দরপতনের শীর্ষ তালিকায়ও আধিপত্য ছিল ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর। বিশেষ করে একদিনে নতুন করে ১০টি ব্যাংক ‘জেড’ শ্রেণিতে চলে যাওয়ার ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার দামে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে সবচেয়ে বেশি দর কমা শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৮টিই ব্যাংক। এর মধ্যে সব থেকে বেশি দাম কমেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের। পতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম কমেছে ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া সিটি ব্যাংকের ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, এবি ব্যাংকের ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১১ দশমিক ১১ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ১০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ দাম কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। তার ওপর গত বছর লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে নতুন করে ১০টি ব্যাংক জেড শ্রেণিতে পড়ায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক খাতের শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন, যার প্রভাব পড়ছে দামে। শেয়ারবাজারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি টানা দুই বছর লভ্যাংশ দিতে না পারলে তাকে ‘জেড’ শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়। এই শ্রেণিতে চলে গেলে ওই কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায় এবং লেনদেনেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায় এবং শেয়ারের তারল্য সংকুচিত হয়। নতুন করে জেড শ্রেণিতে যাওয়া ব্যাংকগুলো হলো-এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউসিবি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংক। গত সপ্তাহ সব থেকে বেশি দাম কমার তালিকায় এখান থেকে পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে। এগুলো হলো- এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। এদিকে নতুন করে ১০ কোম্পানি জেড গ্রুপে চলে আসায় বর্তমানে জেড গ্রুপে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। কারণ আগের থেকেই আরও পাঁচটি ব্যাংক জেড শ্রেণিতে ছিল। ১৫ ব্যাংক জেড গ্রুপে থাকার পাশাপাশি বর্তমানে আরও পাঁচটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ রয়েছে, যেগুলো একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় আছে। একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংক হিসাবের বাহিরে রাখলে বর্তমানে লেনদেনযোগ্য ব্যাংক কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৮ দশমিক ৩৯ শতাংশই জেড বা দুর্বল কোম্পানির তালিকায় অবস্থান করছে। আর একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলো হিসাবে নিলে এই হার বেড়ে দাঁড়াবে ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দেশের শেয়ারবাজারে এতো বেশি ব্যাংক আগে কখনো জেড গ্রুপে নামেনি। ব্যাংক খাতের এমন খারাপ সময়ের মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক গত বছর রেকর্ড মুনাফাও করেছে এবং ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দুর্বল ব্যাংকগুলোর অবস্থা পুরো খাতকে চাপে ফেলছে। বর্তমানে ১৩টি ব্যাংকের শেয়ার দাম অভিহিত মূল্যের নিচে তথা ১০ টাকার নিচে অবস্থান করছে। একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া থাকা পাঁচ কোম্পানি হিসাবে নিলে এই সংখ্যা হবে ১৮টি। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক কোম্পানিগুলোর ৫০ শতাংশের শেয়ার দাম অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে। এদিকে গত সপ্তাহে দাম কমার শীর্ষ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দাম ৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৭ টাকায়, সিটি ব্যাংক ৩৩ টাকা থেকে ২৭ টাকায়, এবি ব্যাংক ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৬০ পয়সায়, ইস্টার্ন ব্যাংক ২৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ২৩ টাকা ৯০ পয়সা, আইএফআইসি ব্যাংক ৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৩০ পয়সা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৪ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক ১৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৬ টাকা এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দাম ১৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৩ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে গেছে। ব্যাংকের বাইরে দাম কমার শীর্ষ তালিকায় থাকা বাকি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইনফরমেশন সার্ভিসেসের শেয়ার দাম কমেছে ১২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এতে কোম্পানিটির শেয়ার দম ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৫৫ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আর ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম কমেছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এতে এই বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ৪২ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে গেছে। ডিএসইর এক সদস্য বলেন, গত সপ্তাহে দাম কমার শীর্ষ তালিকায় থাকা একাধিক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে এক ধাক্কায় ১০টি ব্যাংক জেড গ্রুপে চলে আসায় সার্বিক ব্যাংক খাতের শেয়ারের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। যে কারণে শেয়ার দাম কমেছে। আর ব্যাংকের শেয়ার দাম কমায় সার্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমএএস/এমআইএইচএস
Go to News Site