Collector
পরিত্যক্ত জিনিসে স্বপ্ন বুনছেন রংপুরের জেমি | Collector
পরিত্যক্ত জিনিসে স্বপ্ন বুনছেন রংপুরের জেমি
Somoy TV

পরিত্যক্ত জিনিসে স্বপ্ন বুনছেন রংপুরের জেমি

সুঁই-সুতার নিপুণ ছোঁয়ায় পুরনো পাটের বস্তা, পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি থেকে দৃষ্টিনন্দন নকশি কাঁথা, ব্যাগ ও ফ্লোর ম্যাট তৈরি করেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার সিরাতি আজমিন শাহ জেমি। আবর্জনা থেকে শিল্প সৃষ্টির অনন্য এ উদ্যোগ নজর কাড়ছে সবার।রঙিন সুতা ও সুঁই এর বুননে ফেলে দেয়া কাপড় ও পাটের বস্তায় জেমি ফুটিয়ে তুলছেন গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি। নারী উদ্যোক্তা সিরাতি আজমিন শাহ জেমি বলেন, গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যখন স্কুলে যেত তখন আমি দেখতাম তারা বই-খাতা গুলো স্কুল ব্যাগ না ব্যবহার করেই বুকে জড়িয়ে নিয়ে  যেত।  তা দেখেই চিন্তা করলাম পুরাতন কাপড় দিয়ে ব্যাগ তৈরি করে তাদেরকে অল্প টাকায় দেয়া যায় কিনা?  কারণ আমি হাতের কাজ করতে জানি, মায়ের কাছে শিখেছি। যখন ছোট-ছোট ছেলেমেয়ে গুলোর জন্য পুরাতন কাপড় এবং বিভিন্ন পাটের বস্তা ব্যবহার করে ব্যাগ বানালাম ওরা সেটা পছন্দ করেছে। পরে প্রশিক্ষণ নিয়ে, পুরাতন কাপড় এবং বিভিন্ন চালের বস্তা বা পাঠের বস্তা গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা শুরু করলাম। এবং আস্তে আস্তে আমি এগুলোতেই নকশা বুনতে শুরু করলাম রঙিন সুতা দিয়ে। আমি এই মুহূর্তে নকশী কাঁথা, সোফার কুশন, পাপশ সহ বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগ তৈরি করছি। শৈশবে মায়ের হাতের বুনন দেখে যে মুগ্ধতার শুরু, বিয়ের পর শাশুড়ির অনুপ্রেরণায় তা পায় পূর্ণতা।পুরাতন কাপড়কে নকশায় নতুন রূপ দিচ্ছেন জেমি। ছবি: সময় সংবাদ  জেমির মা আমাদের জানালেন, আমার মেয়েকে আমি পড়াশোনা শিখিয়েছি। ওই নিজে থেকেই একটা কিছু করবে, নিজের চাহিদা পূরণ করবে সে ভাবেই বড় করেছি। বাসায় আমি আগে পুরাতন জামা বা পাঞ্জাবিতে সুতার কাজ করে সেগুলো নতুন করতাম। সেই সময় আমার মেয়ে আমার হাতের কাজে সাহায্য করত আর আস্তে আস্তে আমার মেয়েও কাজটি শিখে যায়। এখন আমার মেয়ে অনেক ধরনের নকশা বুনতে পারে। আরও পড়ুন: নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য রফতানিতে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ শৈশবে মায়ের কাছে হাতেখড়ি হলেও জেমির সৃজনশীলতার পালে নতুন হাওয়া লাগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ESDO) প্রশিক্ষণে জেমির শৌখিন কাজ পায় পেশাদারিত্বের ছোঁয়া। ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন পৃথিবী গড়ার ব্রত নিয়ে জেমি আজ এক সফল নারী উদ্যোক্তা। বর্তমানে বিভিন্ন মেলা এবং নিজ বাড়ি থেকে বিক্রি হচ্ছে জেমির তৈরি পণ্য। কম খরচে তৈরি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে । এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েট নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, এই গ্রামকে নিয়ে আমরা একরকম স্বপ্নই দেখছি। আমরা এই গ্রামটিকে জিরো ওয়েস্ট ভিলেজে পরিণত করব। তাই এই প্রকল্প হাতে নিয়ে এই গ্রামে আমরা কাজ করছি। এক সময়ে আমরা এই গ্রামে দেখতাম প্লাস্টিকের ব্যবহার অত্যাধিক বেশি। পরে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর জন্য প্রজেক্টটা শুরু করি। যখন কাজ শুরু করলাম তখন যে জিনিসটা প্রথম লক্ষ্য করলাম সেটা হচ্ছে মহিলাদের কর্মসংস্থান নেই তারা শুধু সাংসারিক কাজেই ব্যস্ত থাকে, অতিরিক্ত কোনো ইনকামের সোর্স নেই তাদের কাছে। তাই আমরা চিন্তা করি এমন একটা প্রকল্প তৈরি করতে হবে যেখানে প্লাস্টিকের ব্যবহারও কমবে পাশাপাশি এই গ্রামে নারীদের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। আমরা এখন প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন নারীকে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব কাজের সাথে যুক্ত করে সহায়তা করছি। অপরদিকে ইয়থ ক্যারিয়ার এন্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ আলী আমাদের জানান, আমরা এই গ্রামটিতে নারী উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। তারা পরিবেশবান্ধব যে পণ্যগুলো তৈরি করছেন সেগুলো যদি সহজেই গ্রাহকদের পর্যন্ত পৌঁছায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখছি পাশাপাশি দেশিয় মার্কেটে নিয়ে আসার চেষ্টাও করছি। আরও পড়ুন: কেন বিসিকের নতুন শিল্পনগরী-পার্ক বিমুখ হচ্ছেন উদ্যোক্তারা? শুধু জেমি নয়, জেমির মতো আরও নারী উদ্যোক্তা তৈরি করার সংকল্প নিয়ে কাজ করছে এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং ইয়থ ক্যারিয়ার এন্ড ডেভেলপমেন্ট। তাদের লক্ষ্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের আরও দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। পাশাপাশি নারীদের তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে টেকসই কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করা। নারী উদ্যোক্তা সিরাতি আজমিন শাহ জেমির বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়ার শাহপাড়া গ্রামে।

Go to News Site