Somoy TV
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান একত্রিত হয়ে হজ পালন করেন, যেখানে বর্ণ, ভাষা, জাতি ও অর্থনৈতিক বিভাজন সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়। এই মহামিলন শুধু ধর্মীয় চেতনার নয়, বরং মানবিকতা, সাম্য, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার এক অনন্য শিক্ষাক্ষেত্র। তাই হজের প্রকৃত শিক্ষা ব্যক্তি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নের এক শক্তিশালী ভিত্তি রচনা করে।অনেকে জানতে চান, হজের আগে মক্কায় অবস্থানকালে ওমরাহ নাকি তাওয়াফ কোন আমল উত্তম? এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, পবিত্র হজের আগে ওমরাহ সম্পন্ন করার পর একজন হজযাত্রী চাইলে একাধিক ওমরাহ পালন করতে পারেন। এতে ধর্মীয় কোনো বিধি-নিষেধ নেই। বেশি বেশি ওমরাহ নাকি তাওয়াফ-- এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি বেশি উত্তম, তা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলেমরা। তারা জানিয়েছেন, মক্কায় অবস্থানকালীন একজন হজযাত্রী বা বিদেশির জন্য ওমরাহ করার চেয়ে বেশি বেশি নফল তাওয়াফ করা সাধারণভাবে অধিকতর ফজিলতপূর্ণ। আরও পড়ুন: দেনমোহর নির্ধারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ কত কারণ তাওয়াফ হলো বাইতুল্লাহকে ঘিরে বিশেষ ইবাদত যা অন্য কোথাও সম্ভব নয়। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম হিসাব রয়েছে। একটি ওমরাহ সম্পন্ন করতে সাধারণত যতটুকু সময় ও শ্রম ব্যয় হয়, কেউ যদি সেই সমপরিমাণ সময় তাওয়াফে ব্যয় করেন, তবেই তা ওমরাহ করার চেয়ে উত্তম বলে গণ্য হবে। যদি ওমরাহ করার পরিবর্তে কেউ অলসভাবে বসে থাকেন বা মাত্র একটি-দুটি তাওয়াফ করে মনে করেন যে ওমরাহর চেয়ে বেশি সওয়াব হয়েছে, তবে তা সঠিক হবে না। সময়ের সঠিক ব্যবহার ও ইবাদতের একাগ্রতার ওপর ভিত্তি করেই এই শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। তাই হজযাত্রীদের জন্য পরামর্শ হলো, মক্কায় অবস্থানের দিনগুলোতে সময়ের অপচয় না করে যতটুকু সম্ভব বেশি বেশি তাওয়াফে মশগুল থাকা। তবে কেউ যদি শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ওমরাহ করতে চান, তাতেও কোনো বাধা নেই। (ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ)
Go to News Site