Collector
পানির নিচে সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমির ধান , দিশেহারা কৃষক | Collector
পানির নিচে সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমির ধান , দিশেহারা কৃষক
Somoy TV

পানির নিচে সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমির ধান , দিশেহারা কৃষক

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর মেদির হাওড়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এতে বছরে একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন অন্তত দুই হাজার কৃষক পরিবার।সরেজমিনে নাসিরনগর হাওড় পাড়ে গিয়ে দেখা যায় কৃষকদের করুন চিত্র। জানা যায়, হাওড়ের কৃষকদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে বছরে একমাত্র বোরো ফসল। কিন্তু সুনামগঞ্জের পাহাড়ি ঢল ও অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাতের কারণে আগাম পানিতে তলিয়ে যায় নাসিরনগর হাওড়ের কৃষকদের কষ্টার্জিত সোনালি ধান। উচ্চ মূল্যে শ্রমিকের মজুরি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অনেক চেষ্টা করে স্বপ্নের সোনালি ফসলগুলো পানির নিচ থেকে কেটে আনছেন। তবে কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টির কারণে সে ধানও শুকাতে না পারায় ধানগুলোতে চারা গজেছে। এ অবস্থায় ধার-দেনা করে জমিতে ফসল ফলিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা।তপ্তরোদে মেদির হাওড় পাড়ে কাজ করছেন কৃষাণী বিলকিস বেগম। তার সঙ্গে কাজ করছেন, তার তিন কন্যা লিজা বেগম, স্বর্ণা আক্তার এবং পাখি আক্তার।আরও পড়ুন: হাওড়াঞ্চলে পানির নিচে কষ্টের ফসল, কাটা ধান শুকানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় কৃষকএ সময় কৃষাণী বিলকিস বেগম জানান, তার স্বামী ফুল মিয়ার ছোট একটি মুদির টং দোকান রয়েছে। মেদির হাওড়ে প্রায় ১৫ কানি জমি করেছিলেন ধার দেনা করে। এর মধ্যে ৫ কানি জমির ধান কোনো ক্রমে কেটে আনলেও ১০ কানি জমির ধান এখনো  পানির নিচে। অল্প পরিমাণ ধান কেটে নিয়ে আসলেও উজানে কাল বৈশাখীর ঝড় বৃষ্টির কারণে পচে নষ্ট হয়েছে অনেক ধান। তাই পাশের উপজেলা থেকে বিবাহিত কন্যা লিজা বেগমকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন সহযোগিতা করার জন্য।তিনি আরও জানান, তবে স্বপ্নের সোনালি ফসলে চারা গজিয়েছে। কি করবো? পুরো বছরজুড়ে সংসার চলবে কীভাবে? এই চিন্তায় আমার স্বামী ফুল মিয়া এখন অনেকটাই অসুস্থ। ব্রাহ্মণবাড়িয়র নাসিরনগরে হাওড়ের ডুবে যাওয়া সোনালি ধান তুলে মাঠে শুকাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ছবি: সময় সংবাদবিলকিসের মেয়ে লিজা বেগম জানান, আমার বাবার ধানি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাদের সহযোগিতা করার জন্যে এসেছি। আমার অপর দুই বোন স্বর্ণা ও লিজা আক্তারও সহযোগিতা করছে। পচা ধানগুলোকে কোনো ক্রমে হাঁস ও গরুর খাবারে পরিণত করার জন্য। এমন অবস্থা পুরো হাওড়জুড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।আরও পড়ুন: ‘পানির নিচে পচে যাচ্ছে ধান, আমরা না খেয়ে মরব’ এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২৫০টি কৃষি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। আর হাওড়ে কৃষি জমি তলিয়ে যেতে দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিহত আহাদ মিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। বাকি ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যায় ক্রমে সহায়তা করা হবে।এ দিকে হাওড়ে ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ হাওড় অঞ্চল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।নাসিরনগর হাওড়ে ২২০০ বিঘার বেশি কৃষি জমিসহ অন্তত দুই হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১৩ কোটি টাকা।

Go to News Site