Collector
আরটিএ চুক্তি: উন্নয়নের সুয়োগ নাকি প্রতিবন্ধকতা | Collector
আরটিএ চুক্তি: উন্নয়নের সুয়োগ নাকি প্রতিবন্ধকতা
Jagonews24

আরটিএ চুক্তি: উন্নয়নের সুয়োগ নাকি প্রতিবন্ধকতা

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল শক্তি জনগণের আস্থা। বিদেশি সমর্থন নয়। ইতিহাসে বারবার প্রমাণ হয়েছে যে,কোনো বিদেশি শক্তি জনগণের সমর্থনহীন সরকারকে স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তার ফল হয় ভয়াবহ। তাই যেকোনো সরকারকেই বুঝতে হবে—দেশপ্রেমের প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তথাকথিত “রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট” বা আরটিএ চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এই চুক্তির ভেতরে যে বৈষম্য, যে একতরফা সুবিধা এবং যে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কাঠামো লুকিয়ে আছে, তা কোনো স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক সরকারের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আমি একবার নয়, একশোবার বলব—এ ধরনের চুক্তি একটি জাতিকে আত্মমর্যাদাহীন করে তোলে। এটি উন্নয়নের সিঁড়ি নয়; বরং অর্থনৈতিক নির্ভরতার শেকল। একটি রাষ্ট্র যদি নিজের কৃষি, শিল্প, ওষুধ উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বিদেশি স্বার্থের কাছে সমর্পণ করে, তাহলে সেটিকে কূটনৈতিক সাফল্য বলা যায় না;সেটি নিছক আত্মসমর্পণ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তিটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হয়েছে যখন দেশের জনগণ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, রাজনৈতিক পরিবেশ অনিশ্চিত, এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছিল। অর্থাৎ জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেটবিহীন একটি প্রশাসন এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চুক্তি করে ফেলল, যার বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বহন করবে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই অধিকার তাদের কে দিয়েছিল? আরও বিস্ময়কর হলো, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—নাকি তখন এই চুক্তিকে নীরব সমর্থন দিয়েছিল। যদি সেটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে জনগণের সামনে তাদের জবাবদিহি করা উচিত। কারণ জনগণ জানতে চায়—কেন তারা তখন বলেনি যে, “নির্বাচনের পরে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসে আমরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করব”? কেন তারা বলেনি যে, “জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা আমরা গ্রহণ করব না”? বরং তারা এমন আচরণ করল যেন আমেরিকার অসন্তুষ্টি এড়ানোই ছিল সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। তাহলে কি দেশের স্বার্থের চেয়ে বিদেশি সমর্থন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল? তাহলে কি ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করতে জাতীয় স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলো আজ জনগণের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ ইতিহাস সাক্ষী—যে রাজনৈতিক শক্তি জনগণের স্বার্থের চেয়ে বিদেশি চাপকে বড় করে দেখে, শেষ পর্যন্ত সেই শক্তি জনগণের আস্থা হারায়। এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। আজ যারা বিরোধীদল হিসেবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে, তারাও কিন্তু দেশের চরম স্বার্থবিরোধী এই চুক্তির বিরুদ্ধে কার্যত নীরব। আমি বলছি না যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রয়োজন নেই। বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি—এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু একইসঙ্গে প্রশ্ন জাগে, যে চুক্তির কারণে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও সার্বভৌম স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, সেই বিষয়ে বিরোধীদের উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদ কোথায়? কেন তারা জনগণকে সামনে নিয়ে এই প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে না? তাহলে কি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নেও রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার হিসাবই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে? এই চুক্তির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এটি বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্পখাতকে অসম প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেবে। বাংলাদেশের কৃষক যেখানে সীমিত ভর্তুকি, জলবায়ু সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেটের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে, সেখানে মার্কিন কৃষিপণ্য বাধ্যতামূলক আমদানির শর্ত দেশীয় কৃষিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। গম, তুলা, গরুর মাংস কিংবা ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষিপণ্য যদি অবারিতভাবে বাজারে প্রবেশ করে, তাহলে দেশের ক্ষুদ্র কৃষক কীভাবে টিকে থাকবে? একইভাবে দেশের ওষুধ শিল্প, যা আজ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম সফল খাত হিসেবে পরিচিত, সেটিও কঠোর পেটেন্ট নীতির কারণে বিপদের মুখে পড়তে পারে। বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফা নিশ্চিত করতে গিয়ে যদি স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হয়, তাহলে ওষুধের দাম বাড়বে, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে এবং স্বাস্থ্যখাত নতুন সংকটে পড়বে। এই বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট যখন মশাল মিছিল করে এই চুক্তি বাতিলের দাবি তোলে, তখন এটিকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। তারা স্পষ্টভাবে বলেছে—এটি কোনো সমতা ভিত্তিক বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং একটি শক্তিধর রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া নির্দেশনামা। বর্তমান বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের মনে এমন প্রশ্ন ও কি দিতে পারে যে,তাহলে কি রাজনীতিতে আদর্শ, দেশপ্রেম, জনস্বার্থ—এসব কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি? ক্ষমতার প্রশ্ন এলে কি সব নীতি ও অবস্থান বদলে যায়? আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা জিয়াউর রহমান-এর মতো একজন রাষ্ট্রনায়ককে হারিয়েছি, যিনি অন্তত জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের প্রতীক হয়ে মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে আছেন। মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একই ধরনের বাণিজ্য চুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অকার্যকর ঘোষণা করেছে। কেন? কারণ মার্কিন আদালতই বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তার আইনি ভিত্তি দুর্বল। ফেডারেল আদালত সেই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এমনকি মামলাকারীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও এসেছে। অর্থাৎ যে চুক্তির ভিত্তি ছিল মার্কিন শুল্ক সুবিধা, সেই ভিত্তিই যখন আদালতের রায়ে নড়ে গেছে, তখন মালয়েশিয়া বুঝেছে—জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পিছিয়ে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্য দিতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, মালয়েশিয়া যদি সাহস দেখাতে পারে, বাংলাদেশ কেন পারবে না? আমাদের কি আত্মমর্যাদা নেই? আমাদের কি নিজস্ব অর্থনৈতিক কৌশল নেই? আমাদের কি এমন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই যারা বলতে পারবে—“জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি আমরা মানব না”? আসলে এই চুক্তির ভেতরে যে মানসিকতা কাজ করেছে, সেটি হলো নির্ভরতার রাজনীতি। দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বাণিজ্য চুক্তিকে ব্যবহার করেছে। মুক্তবাজারের নামে স্থানীয় শিল্প ধ্বংস, কৃষিকে দুর্বল করা, বহুজাতিক কোম্পানির আধিপত্য তৈরি করা—এসব নতুন কিছু নয়। লাতিন আমেরিকা থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত অসংখ্য দেশ এই বাস্তবতার শিকার হয়েছে। বাংলাদেশও কি সেই একই ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছে? সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, দেশের ভেতরে এই চুক্তি নিয়ে যে গভীর জাতীয় বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হয়নি, জনগণের মতামত নেওয়া হয়নি, বিশেষজ্ঞদের উন্মুক্ত পর্যালোচনাও হয়নি। অথচ এটি এমন একটি চুক্তি, যার প্রভাব আগামী কয়েক দশক পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। আজ প্রয়োজন সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের। প্রয়োজন স্পষ্ট ঘোষণা—বাংলাদেশ কোনো অসম, বৈষম্যমূলক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি মেনে নেবে না। প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, যেখানে সরকার, বিরোধী দল, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র—সবাই মিলে বলবে, “বাংলাদেশ কারও অর্থনৈতিক উপনিবেশ হবে না।” আমরা বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু গোলামি নয়। আমরা বাণিজ্য চাই, কিন্তু আত্মসমর্পণ নয়। আমরা সহযোগিতা চাই, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে নয়।সুতরাং আর কালক্ষেপণ নয়। সরকারকে এখনই এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। মালয়েশিয়ার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ কোনো বিদেশি চাপের কাছে বিকিয়ে দেওয়া যায় না। সুতরাং সময় এসেছে সেই গোলামির জিঞ্জির ভেঙে ফেলার। এই জায়গা থেকেই আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে বলতে চাই—আপনি এ দেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া-র সুযোগ্য সন্তান। এ দেশের লক্ষ-কোটি মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও অখণ্ড সমর্থনই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যৎ রাজনীতির চালিকাশক্তিও জনগণই। সুতরাং বিদেশি শক্তির সন্তুষ্টির চেয়ে জনগণের স্বার্থকে বড় করে দেখুন। জনস্বার্থবিরোধী, দেশবিরোধী এবং জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী আরটিএ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসুন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অগ্নিঝরা উচ্চারণে লিখেছিলেন—“কারার ঐ লৌহ কপাটভেঙে ফেল কর রে লোপাট,রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।ওরে ও তরুণ ঈশান!বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ!ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি’।” আজ বাংলাদেশের মানুষের মনেও ঠিক সেই আহ্বান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যে চুক্তি জাতির ভবিষ্যৎকে শৃঙ্খলিত করে, যে সমঝোতা দেশের কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে, সেই গোলামির তালা ভাঙার সাহসই এখন সবচেয়ে বড় দেশপ্রেম। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি সাহসিকতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাহলে শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়—ইতিহাসও আপনাকে ভিন্ন উচ্চতায় মূল্যায়ন করবে। শতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে আপনি একটি অনন্য স্থান লাভ করতে পারেন। একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আপনার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কারণ যখন মানুষ দেখবে—আপনি কারও আন্দোলনের চাপে নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ, জনগণের স্বার্থ এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে একটি অসম ও আত্মঘাতী চুক্তি বাতিল করেছেন। এতে বিরোধী রাজনীতির অনেক হিসাবও ভেঙে পড়বে। কারণ জনগণ বুঝবে—এ সিদ্ধান্ত ক্ষমতার কৌশল নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সিদ্ধান্ত। আর যখন জাতি দেখবে যে একজন প্রধানমন্ত্রী বিদেশি চাপের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে বড় করে দেখছেন, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আপনার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো—এই দেশের জনগণই আপনার প্রকৃত ও চূড়ান্ত শক্তি। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া তাদের রাজনৈতিক জীবনে প্রমাণ করে গেছেন, জনগণ যার সঙ্গে থাকে, ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত তাকে পরাজিত করতে পারে না। সাময়িক ঝড় আসতে পারে, বাধা আসতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের শেষ হাসি তারাই হাসেন যারা জনগণের পাশে থাকেন, জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। সুতরাং এখনই ভেঙে ফেলুন গোলামির জিঞ্জির। লেখক: সাংবাদিক,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com এইচআর/এমএস

Go to News Site