Collector
কিভাবে মিরপুরের উইকেটে এতটা ভালো করলেন আব্বাস-আজান? | Collector
কিভাবে মিরপুরের উইকেটে এতটা ভালো করলেন আব্বাস-আজান?
Jagonews24

কিভাবে মিরপুরের উইকেটে এতটা ভালো করলেন আব্বাস-আজান?

ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস আর শোয়েব আখতারের মতো দ্রুত গতির ওপর সুইং বোলার তিনি নন। তাকে ভাবা হয় মোহাম্মদ আসিফের উত্তরসূরি। অবশ্যই আসিফের সেই জাদুকরি সুইংটা তার নেই। তারপরও লাইন-লেন্থ বজায় রেখে এক চ্যানেলে বোলিং করার ক্ষমতা বেশি বলেই দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে মোহাম্মদ আব্বাসের সাফল্য বেশি। টেস্টে তার ওপর অনেক নির্ভর করে পাকিস্তান। এবার মিরপুরের শেরে বাংলায় প্রথম টেস্টেও মোহাম্মদ আব্বাসই পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরালেন। গতকাল প্রথমদিন তেমন কিছু (এক উইকেট) করতে না পারলেও আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনে আব্বাসের ম্যাজিকেই ম্যাচে ফিরেছে পাকিস্তান। শনিবার প্রথম সেশনে বাংলাদেশের খোয়ানো ৬ উইকেটের ৪টিরই পতন ঘটিয়েছেন আব্বাস। মুশফিকুর রহিম একপ্রান্তে ছিলেন। সঙ্গে যে দুজনার ব্যাটের দিকে তাকিয়েছিল বাংলাদেশ, যে দুজন ২ বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সঙ্গে দলের প্রয়োজনে দীর্ঘ ইনিংস গড়ে দলকে দারুণভাবে সহায়তা করেছিলেন, সেই লিটন দাস আর মেহেদি হাসান মিরাজ- দু’জনকেই সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছেন আব্বাস। সঙ্গে দুই বোলার তাইজুল আর এবাদতও ছিলেন আব্বাসের শিকার। এক কথায় আব্বাস ৩৪ ওভারে ৯২ রানে ৫ উইকেটের পতন ঘটালেই বাংলাদেশ ৪ উইকেটে তোলা ৩০১ রান নিয়ে খেলতে নেমে শেষ ৬ উইকেটে ১১২ রান যোগ করে অলআউট হয়। আব্বাসের ৫ উইকেট পাওয়া দেখে ভাববেন না যে পিচ ফাস্ট বোলারদের পক্ষে ছিল। বল পড়ে দ্রুত গতি, বাড়তি উচ্চতা আর বেশি সুইং করে ব্যাটে এসেছে। তাহলে আব্বাসের বোলিং সাফল্যের ভেতরের গল্পটা কী? খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে এসে আব্বাসের বোলিং সাফল্যের গল্পটা শুনিয়ে গেলেন পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম উল হক। অনেক কথার ভিড়ে ইমাম উল হক জানালেন, আব্বাস প্রচুর ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট খেলে। ইংলিশ কাউন্টিতেও নিয়মিত অংশ নেন। তাই দীর্ঘ পরিসরের খেলায় কখন কী করতে হয়, তা তার খুব ভালো জানা। তিনি একটা চেইনে লম্বা সময় বোলিং করতে পারেন। এ টেস্টেও ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করেছেন এবং সফল হয়েছেন। ইমাম উল হক আরও একটি মন্তব্য করেছেন, তাহলো-আব্বাসের বলে গতি কম, সেটা কোনো ব্যাপার না। আসলে গতিই সব কিছু নয়। ভালো জায়গায় বল ফেলা এবং ধারাবাহিকভাবে একটা চেইনে বল ফেলাটা অনেক বেশি কাজে দেয়। আজও দিয়েছে। যে পিচে আব্বাস দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসের অর্ধেকটার পতন ঘটালেন, সেই উইকেটে নাহিদ রানা, তাসকিন আর এবাদত কিছুই করতে পারলেন না। তাদের হতাশায় ডুবিয়ে ২১ বছরের অভিষেক হওয়া আজান আওয়াইজ ব্যাট হাতে শাসন করে শতরানের খুব কাছাকাছি (৮৫ নটআউট) পৌঁছে গেছেন। সেটা কিভাবে সম্ভব হলো? সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইমাম-উল হক জানিয়ে দিলেন, আজানও কিন্তু হাইলি ট্যালেন্টেড ব্যাটার এবং সে দেশের ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটে পারফর্ম করেই দলে এসেছে। আজান আওয়াইজের ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইমাম বলেন, আজান এরই মধ্যে ৩৩টি ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাচ খেলে ১০টি সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। কাজেই সে নিজের মেধা দিয়েই দলে। বোঝাতে চাইলেন, আজান সেঞ্চুরি করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এআরবি/আইএইচএস

Go to News Site