Collector
বিদেশি লিগের টানে দোদুল্যমান অস্ট্রেলিয়ার তারকারা | Collector
বিদেশি লিগের টানে দোদুল্যমান অস্ট্রেলিয়ার তারকারা
Somoy TV

বিদেশি লিগের টানে দোদুল্যমান অস্ট্রেলিয়ার তারকারা

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের অন্তত পাঁচজন সিনিয়র খেলোয়াড় সম্প্রতি বোর্ডের দেয়া ২০২৬–২৭ মৌসুমের প্রাথমিক চুক্তির প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন এবং এখনো সই করার ব্যাপারে সম্মতি দেননি। এদিকে, বিগ ব্যাশের বড় তারকাদের একটি অংশ আগামী গ্রীষ্মে বিদেশে খেলতে যাবে কি না তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবছে। কারণ, বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণ পরিকল্পনা থমকে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের বেতন পুনর্নির্ধারণও আটকে গেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের তুলনায় প্রায় ১ থেকে ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কম আয় করেছেন।শনিবার (৯ মে) কোড স্পোর্টস প্রথম এই খবর প্রকাশ করেছে। পরে ইএসপিএন-ক্রিকইনফো জানায়, গত সপ্তাহে উপস্থাপিত প্রাথমিক চুক্তির প্রস্তাবে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন ক্রিকেটার সন্তুষ্ট নন।এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) দ্য এজ জানিয়েছিল, টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে আগামী তিন বছরের জন্য বছরে ৪০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার বড় অংশই নিশ্চিত অর্থ বলে জানা গেছে।বর্তমান সমঝোতা স্মারক যা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার'স অ্যাসোসিয়েশন ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) মধ্যে স্বাক্ষরিত এবং ২০২৮ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কার্যকর, তার আওতায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের (১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭) জন্য সর্বোচ্চ ২৪জনকে জাতীয় চুক্তি দেওয়া হবে। এই খেলোয়াড়রা মূল বেতন হিসেবে মোট ২ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ২৫৭ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ভাগ করে নেবেন।খেলোয়াড়দের গুরুত্ব ও ওই সময়ে সম্ভাব্য ম্যাচসংখ্যার ভিত্তিতে র‌্যাঙ্কিং করা হয়। তালিকার সর্বনিম্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়ের মূল বেতন ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।এ ছাড়া ম্যাচ ফি হিসেবে প্রতি টেস্টে প্রায় ১৯ হাজার, প্রতি ওয়ানডেতে প্রায় ৮ হাজার এবং প্রতি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রায় ৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার করে পাওয়া যায়। এর বাইরে জয়ের জন্য বোনাসও আছে; একটি টেস্ট জিতলে একজন খেলোয়াড় মোটামুটি ৩০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। পাশাপাশি একটি মার্কেটিং পুলও রয়েছে, যেখান থেকে বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে উপস্থিতির ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়রা অর্থ পান।আরও পড়ুন: টাইগারদের স্লিপ ক্যাচিংয়ে উন্নতি চান কোচঅস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক আগেই বড় একটি ইস্যু ছিল এবং বিগ ব্যাশ লিগের বেসরকারিকরণ বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিল এই বিষয়টি। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ক্রমবর্ধমান অর্থের কারণে অনেক খেলোয়াড় ভাবছেন, ১২ মাসের জন্য সিএ'র চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া তাদের মোট আয় কমিয়ে দিচ্ছে কি না।মার্কাস স্টয়নিস এবং টিম ডেভিডের মতো খেলোয়াড়রা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন না। কারণ, বছরে ন্যূনতম ছয়টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেই তারা বেস বেতন বাড়ানোর সুযোগ পেতেন। একই সঙ্গে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) ছাড়াই স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চুক্তি করতে পেরে অন্যত্র বেশি আয় করতে পারতেন।এবার সিএ ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। ২০২৬–২৭ মৌসুমে তারা ২৪ জনের বদলে ২১ জনকে চুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, যাতে একই অর্থের পুল কম সংখ্যক খেলোয়াড়ের মধ্যে ভাগ হয়। অথচ এই অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়া রেকর্ডসংখ্যক ১৭টি, সম্ভবত ১৮টি টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। তবে একই সময়ে তারা খেলবে মাত্র ৯টি ওয়ানডে ও ৫টি টি-টোয়েন্টি।কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দিয়ে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়টি সাদা বলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। তাদের অনেকের ধারণা, স্বাধীনভাবে খেললে প্রস্তাবিত চুক্তির চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।অন্যদিকে তিন ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটারদেরও উদ্বেগ আছে, কিছু সিরিজে বিশ্রাম নিতে হলে বা কম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সময় বড় অঙ্কের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট চললে তারা কতটা আর্থিক সুযোগ হারাচ্ছেন।এই উদ্বেগের কথা মার্চ মাসে কামিন্স নিজেই তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলতে গেলে তাকে দ্য হান্ড্রেডে খেলে সম্ভাব্য ৬ লাখ ৭৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার) আয়ের সুযোগ ছাড়তে হবে।স্বল্পমেয়াদে এই পরিস্থিতির সমাধান কীভাবে হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।অস্ট্রেলিয়ার সামনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে দুটি সাদা বলের সিরিজ রয়েছে, তবে সেগুলো আগের চুক্তি চক্রের আওতায় পড়বে। আরও পড়ুন: পরিকল্পনা করে নাহিদকে সামলেছে পাকিস্তান২০২৬–২৭ নতুন চুক্তি চক্রের প্রথম ম্যাচ হবে আগস্টে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ।বিগ ব্যাশ লিগের বেসরকারিকরণ পরিকল্পনা থেমে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অসন্তুষ্ট:জানা গেছে, প্রায় এক ডজন পরিচিত অস্ট্রেলিয়ান বিগ ব্যাশ তারকা এই অচলাবস্থায় ভীষণ ক্ষুব্ধ। গত বছরের অক্টোবরেই তারা নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। টানা তিন বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় ও বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের বড় ব্যবধানে তারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ওপর হতাশ ছিলেন।ড্রাফট চালু হওয়ার পর প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে ৪ লাখ ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের চুক্তি আসে। ফলে লুক উড ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো বিদেশি খেলোয়াড়রা অনেক বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। অথচ টি-টোয়েন্টিতে আরও ভালো রেকর্ড থাকা অনেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার পেয়েছেন মাত্র ২ থেকে ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।সিএ বেসরকারিকরণ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যেতে পারলে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার'স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। কিন্তু দুটি রাজ্য এগোতে না চাওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এখন একটি হাইব্রিড পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। তবে আপাতত খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে।এ অবস্থায় বিগ ব্যাশের তারকারা নিজেদের বিকল্প পথ নিয়ে ভাবছেন।সামনের মৌসুমটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইএলটি২০ এবার নভেম্বরেই শুরু হবে, অর্থাৎ বিগ ব্যাশের আগেই। জানা গেছে, কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়কে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলতে ৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এসএ২০; যাকে বিগ ব্যাশের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে, শোনা যাচ্ছে আগামী ১৭ জানুয়ারি শুরু হতে পারে।গত বছরের মতোই বিগ ব্যাশ সম্ভবত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহান্ত পর্যন্ত চলবে।এর মানে, অস্ট্রেলিয়ানরা চাইলে দুই লিগেই খেলতে পারেন। তবে সে জন্য এনওসি লাগবে এবং তাদের এসএ২০'র প্রথম সপ্তাহ মিস করতে হবে।এতে কয়েক বছর আগের অদ্ভুত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তখন কিছু অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ের দল বিগ ব্যাশের ফাইনালে উঠতে না পারায় তারা আগেভাগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতে পেরেছিলেন এবং বেশি অর্থ উপার্জন করেছিলেন। কারণ বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তিতে ম্যাচসংখ্যা অনুযায়ী পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়।তবে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটাররা এই দুই লিগের কোনোটিতেই থাকতে পারবেন না। কারণ ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজের পর জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত ভারত সফরে পাঁচ টেস্টের সিরিজ রয়েছে।গত বছর এসএ২০'র নিলামে দক্ষিণ আফ্রিকার দেভাল্ড ব্রেভিস এবং এইডেন মার্করাম ১ কোটি ৬৫ লাখ র‌্যান্ডে (প্রায় ১৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার) বিক্রি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এই অঙ্কটি বিগ ব্যাশের শীর্ষস্থানীয় অস্ট্রেলিয়ানদের চুক্তির তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ছিল। আরও পড়ুন: এলোমেলো বোলিং করেছি, আরও ৫০-৬০ রান করলে ভালো অবস্থানে থাকতাম: সালাউদ্দিনজানা গেছে, বিগ ব্যাশের সিনিয়র তারকারা স্বল্পমেয়াদে এত বড় অঙ্কের অর্থ আশা করছেন না। তবে তারা অন্তত এ বছর ব্যবধানটা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করেছিলেন, যাতে ২০২৭–২৮ মৌসুমে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়।আরও জানা গেছে, রাজ্যগুলোর কাছে সিএ'র প্রস্তাবের একটি অংশ ছিল বেতনসীমা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত বাড়ানো। তবে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের জন্য বড় সমস্যা হলো বিগ ব্যাশের সর্বনিম্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়ও অন্তত ৫২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পান, যেখানে এসএ২০'তে সেই অঙ্ক মাত্র প্রায় ১৭ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার।অথচ দুই লিগের বেতনসীমা মোটামুটি কাছাকাছি, প্রায় ৩২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

Go to News Site