Somoy TV
যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে স্ত্রী মুন্নি ও তার সহযোগীদের হাতে খুন হয়েছেন স্বামী ইকরামুল কবির (২৫)।নিখোঁজের একমাস পর শনিবার (০৯ মে) রাত ১০টার দিকে পুলিশ মুন্নির আগের স্বামীর বাড়ি থেকে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ইকরামুল কবির উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইকরামুলের সঙ্গে মামাতো বোন মুন্নির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুন্নি আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ইকরামুলকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ইকরামুল জমি বিক্রির ১৩ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছে গচ্ছিত রাখেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মুন্নি তার আগের স্বামী, বান্ধবী ও অন্য সহযোগীদের নিয়ে ইকরামুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৮ এপ্রিল মুন্নি কৌশলে ইকরামুলকে তার আগের স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অজ্ঞান করার পর পাঁচজন মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘরের ভেতর মাটি চাপা দিয়ে মরদেহ গোপন করেন তারা। আরও পড়ুন: ১৮ ঘণ্টা পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ ইকরামুল নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মুন্নিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বসতপুর গ্রামে মুন্নির আগের স্বামী আলফারাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্নি ও তার বান্ধবী কাকলি, কাকলির বাবা ফজু মোড়ল এবং মুন্নির আগের স্বামী আলফারাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, ফাঁসি চাই। স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল বলেন, টাকার লোভে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত বিচার দাবি করছি। বাঁগআঁচড়া কেন্দ্রের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম (তদন্ত) বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Go to News Site