Somoy TV
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে গিয়ে একনারী শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে।শনিবার (০৯ মে)র দুপুরে ডিন্স কমিটির আহ্বায়ক ইমরান খানকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার তথ্য কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্য বিশিষ্ট ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির গঠন করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এ কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সফরে বিভাগের প্রভাষক মনিরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা যোগ দেন। সফরের একপর্যায়ে বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে প্রভাষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ক্যাম্পাসে ফিরে বিষয়টি জানাজানি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, গত মঙ্গলবার ওই শিক্ষকের কাছ থেকে সাধারণ 'মুচলেকা' নিয়ে পুরো ঘটনাটি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট শেয়ার করেন। এতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা-ইংরেজি রিডিং না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে প্রার্থী হওয়া রাশেদ খান ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'আমি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে লজ্জিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম এক ছাত্রীকে স্টাডি ট্যুরে যৌন হয়রানি করেছেন। ঘটনাটা ওপেন সিক্রেট। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কেউ কোনো প্রতিবাদ করেননি; উচ্চবাচ্য করেননি। ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগর এক শিক্ষার্থী বলেন, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। ওই অভিযোগে বলা ছিলো- অভিযুক্ত শিক্ষক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন না। শিক্ষার্থীদের এই দাবি মেনে নিয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করে বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানার জন্য বিভাগের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষের মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। এদিকে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির দুজন সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তদন্ত চলাকালীনে গণমাধ্যমে কথা বলা নিষেধ। জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল যবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদের সময়ে নিয়োগ পান।
Go to News Site