Somoy TV
জ্বালানি অনুসন্ধানে গভীর কূপ খননের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এবার প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সফল হলে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। এতে দেশের গ্যাস সংকট কিছুটা হলেও কমবে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরে তিতাস-৩১ কূপে চলছে এই খননকাজ। জ্বালানি সন্ধানে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসির সহযোগিতায় তিতাস-৩১ কূপে চলছে ব্যাপক কার্যক্রম। তবে দেশের অন্যান্য কূপের তুলনায় এখানে খনন কাজ কিছুটা ভিন্ন ও জটিল। সাধারণত দেশের স্থলভাগে কূপ খনন করা হয় ২ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার মিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জের একটি কূপে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯৭৭ মিটার গভীরতায় খননের নজির রয়েছে। এবার সেই সীমাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। তিতাস-৩১ কূপে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হবে। এত গভীরে উচ্চ চাপ, উচ্চ তাপমাত্রা এবং শক্ত শিলাস্তরের মতো নানা ভূগাঠনিক চ্যালেঞ্জ থাকায় কাজটি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুর থেকে আসবে তিন কার্গো এলএনজি, ব্যয় ২১৮৬ কোটি টাকা তিতাস-৩১ গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, যত নিচে যাওয়া হয়, সেখানে চাপ ও তাপমাত্রা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে হাই-প্রেশার ও ওভার-প্রেশার জোন রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করেই খনন করতে হয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগের লক্ষ্য, ডিসেম্বরের মধ্যে তিতাস-৩১ কূপের খনন কাজ শেষ করা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপে এখানে প্রায় ২ টিসিএফ গ্যাসের মজুত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে। সফল অনুসন্ধান হলে এই কূপ থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ হাজার ৭০০ মিটারের নিচে আরও চারটি স্তরে হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি রয়েছে। এসব স্তরে সফলতা মিললে দেশে আরও প্রায় ২ টিসিএফ গ্যাস মজুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপে যেভাবে গভীরতায় গিয়ে অনুসন্ধান চলছে, তা দেশের স্থলভাগের অন্য কোনো কূপে আগে দেখা যায়নি। এটি একদিকে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সফলতা পেলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করবে বলেও মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site