Collector
উপহার হিসেবে পাওয়া টাকায় হজ করলে ফরজ হজ আদায় হবে? | Collector
উপহার হিসেবে পাওয়া টাকায় হজ করলে ফরজ হজ আদায় হবে?
Jagonews24

উপহার হিসেবে পাওয়া টাকায় হজ করলে ফরজ হজ আদায় হবে?

প্রশ্ন: হাদিয়া/উপহার বা অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে এমন টাকা দিয়ে হজ করলে ফরজ হজ আদায় হবে নাকি নিজের উপার্জিত টাকা দিয়েই হজ করতে হবে? উত্তর: ফরজ হজ আদায় হওয়ার জন্য নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে হজ করা জরুরি নয়। উপহার বা অনুদান হিসেবে পাওয়া টাকা দিয়ে হজ করলেও ফরজ হজ আদায় হয়ে যায়। কারো হজে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তাকে হজের খরচ উপহার হিসেবে দেয়, তাহলে ওই হজ তার ফরজ হজ গণ্য হবে। সামর্থ্য হওয়ার পর নতুন করে হজ করা জরুরি নয়। একইভাবে সামর্থ্য থাকার পরও রাষ্ট্র, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া টাকায় হজ করলে ফরজ হজ আদায় হয়ে যাবে। নিজের উপার্জিত টাকায় নতুন করে হজ করা জরুরি নয়। তবে যদি কেউ ইচ্ছা করে ইহরাম বাঁধার সময় নফল হজ আদায়ের নিয়ত করে, তাহলে তার ফরজ হজ আদায় হবে না। তবে সাধারণ হজের নিয়তে করলে ফরজ হজই আদায় হবে। হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিধানের অন্যতম। হজের মৌসুমে মক্কায় গিয়ে হজ করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে, এমন মুসলমানদের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে হজ আবশ্যক করে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হিদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। (সুরা আলে ইমরান: ৯৬, ৯৭) যাদের হজ পালন করার সামর্থ্য আছে তাদের কর্তব্য দ্রুত হজ পালন করে নেওয়া। অযথা দেরি করা ঠিক নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা: ২৮৮৩) আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার যে বান্দার শরীর আমি সুস্থ রেখেছি, তার রিজিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেছি, সে যদি এ অবস্থায় পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমার ঘরে হজের উদ্দেশ্যে না আসে, তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত। (সহিহ ইবনে হিববান: ৩৬৯৫) আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, হজ পালনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কোনো গুরুতর সংকট, কোনো জুলুমকারী শাসকের বাধা কিংবা চলাচলে অক্ষম করে দেওয়া কোনো রোগ, এরপরও সে হজ না করে মারা যায়, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মরুক, কিংবা চাইলে খ্রিস্টান হয়ে মরুক! (সুনানে দারেমি: ১৮২৬) ওএফএফ

Go to News Site