Collector
পুরস্কার নিতে ১ চাপুন–ফোনের ওই ‘মায়াবী’ কণ্ঠটি কার? জানুন আসল রহস্য | Collector
পুরস্কার নিতে ১ চাপুন–ফোনের ওই ‘মায়াবী’ কণ্ঠটি কার? জানুন আসল রহস্য
Somoy TV

পুরস্কার নিতে ১ চাপুন–ফোনের ওই ‘মায়াবী’ কণ্ঠটি কার? জানুন আসল রহস্য

‘অভিনন্দন! আপনি একটি বিশেষ পুরস্কার জিতেছেন। পুরস্কারটি গ্রহণ করতে ১ চাপুন, কাস্টমার কেয়ারে কথা বলতে ৩ চাপুন।’অফিস কিংবা ব্যস্ত কাজের ফাঁকে হঠাৎ ফোনে আসা এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় বা ‘অটোমেটেড’ কল শুনে খুশিতে বা কৌতূহলে ১ কিংবা ৩ চেপেছেন কি? যদি চেপে থাকেন, তবে অজান্তেই পা দিয়েছেন এক ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ফাঁদে। কয়েক সেকেন্ডের এই একটি বাটন চাপাই হতে পারে আপনার জীবনের সঞ্চয় হারানোর কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর ফোনে এমন সন্দেহজনক কল আসার পর নড়েচড়ে বসেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। যেভাবে কাজ করে এই মরণফাঁদসাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত ‘ভয়েস ফিশিং’ বা ‘ভিশিং’-এর একটি আধুনিক রূপ। প্রতারক চক্র একযোগে হাজার হাজার নম্বরে কম্পিউটার জেনারেটেড ভয়েস কল পাঠায়। যখনই কেউ নির্দেশনা মেনে ফোনের বাটন চাপেন, তখনই তাদের ডেটাবেজে ওই নম্বরটি ‘টার্গেট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়। প্রতারকরা বুঝে নেয়, এই ব্যবহারকারী প্রযুক্তিগতভাবে অসচেতন এবং প্রলোভনে সাড়া দিচ্ছেন।পরবর্তী ধাপে, এই চক্রের সদস্যরা সরাসরি ওই ব্যক্তিকে ফোন করে। তারা নিজেদের বিকাশ, নগদ কিংবা কোনো নামি ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এমনভাবে কথা বলে যে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পুরস্কারের টাকা পাঠানোর অজুহাতে তারা সুকৌশলে ওটিপি, গোপন পিন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য হাতিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের ফোনে একটি লিংক পাঠিয়ে বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করতে বলা হয়, যা দিয়ে পুরো ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয় হ্যাকাররা।কল ব্যাক করাও কি ঝুঁকিপূর্ণ?অনেকেই কৌতূহলবশত এসব মিসড কল বা নম্বরগুলোতে কল ব্যাক করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। কিছু আন্তর্জাতিক চক্র এমন ‘প্রিমিয়াম রেট’ নম্বর ব্যবহার করে, যেখানে কল করা মাত্রই আপনার মোবাইল ব্যালেন্স থেকে মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেয়া হবে। এ ছাড়া কল ব্যাক করার মাধ্যমে আপনার নম্বরটি তাদের তালিকায় ‘সক্রিয়’ হিসেবে স্থায়ীভাবে জমা হয়ে যায়, ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ে।তথ্য ফাঁসের নেপথ্যে কারা?অনেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রতারকরা ফোনে কথা বলার সময় গ্রাহকের নাম বা সাম্প্রতিক কোনো লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করে। এতে সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মে যে কলটি হয়তো সত্যিই ব্যাংক থেকে এসেছে। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে–ভেতর থেকে কোনো অসাধু চক্র কি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করছে? তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় মোবাইল অপারেটর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।বাঁচার উপায় কী?আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট গ্রাহকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। তাদের পরামর্শগুলো হলো:* পুরস্কার বা লটারির নামে আসা যে কোনো স্বয়ংক্রিয় কল শোনামাত্র কেটে দিন।* ফোনের ভেতরে কোনো বাটন (১, ২ বা ৩) চেপে নির্দেশনা পালন করবেন না।* অপরিচিত বা সন্দেহজনক বিদেশি নম্বরে কখনোই কল ব্যাক করবেন না।* ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের পিন ও ওটিপি কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না।* কোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করে অ্যাপ নামাবেন না।প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, প্রতারণার কৌশলও তত আধুনিক হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক সেকেন্ডের একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার পকেট বা অ্যাকাউন্ট মুহূর্তেই শূন্য করে দিতে পারে। তাই পুরস্কারের লোভে উত্তেজিত না হয়ে সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

Go to News Site