Collector
পাঠকের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় সাফল্য | Collector
পাঠকের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় সাফল্য
Jagonews24

পাঠকের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় সাফল্য

একটা ভিন্ন সময়ের ভেতর দিয়ে আবার সাংবাদিকতায় ফেরার সিদ্ধান্ত আমার জন্য সহজ কোনো ছিল না। দীর্ঘ সময় দূরে থাকার পর সংবাদমাধ্যমে ফিরে আসার মধ্যে ছিল দ্বিধা, সংকট ও নতুন করে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম দিন থেকেই যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে, সেটি হলো প্রতিষ্ঠান প্রধানের আন্তরিকতা, সহকর্মীদের উৎসাহ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ। এখানে কাজকে চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতির চেয়ে গুরুত্ব পায় তথ্যের সত্যতা, জনস্বার্থ এবং সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিগুলো। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে মানুষের কথা তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের ‘সাপ্তাহিক সভা’ নতুন পরিকল্পনা, আত্মসমালোচনা এবং আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণার জায়গা। সংবাদ কোন দিকে যাচ্ছে, পাঠকের আগ্রহ কোথায় বদলাচ্ছে, কোন বিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন—এসব নিয়েই আলোচনা হয়। এই চর্চা এই সংবাদমাধ্যমকে জীবন্ত রাখে। কারণ সাংবাদিকতা স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে এর ভাষা, গতি ও দায়িত্বও বদলায়। বর্তমান সময়ে অনলাইন সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাৎক্ষণিকতা। কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ জানতে চায় কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং এর প্রভাব কী হতে পারে। এই জায়গায় অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও। গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ ধরে রাখা। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভুয়া তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভ্রান্তিও তত বাড়ছে। ফলে দ্রুততার পাশাপাশি নির্ভুলতা নিশ্চিত করাই হবে সংবাদমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। সংবাদ এখন আর পরদিন সকালের কাগজে আটকে নেই। মানুষের হাতে থাকা ছোট্ট মোবাইল ফোনই হয়ে উঠেছে তথ্য জানার সবচেয়ে বড় জানালা। পরিবর্তিত এই সময়ে পাঠক শুধু খবর জানতে চায় না, জানতে চায় ঘটনার ভেতরের গল্প, কারণ, প্রভাব ও ভবিষ্যৎ। সেই পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই এক যুগ ধরে দেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে জাগো নিউজ২৪.কম। প্রতিষ্ঠার দ্বাদশ বর্ষপূর্তিতে দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির পথচলা একটি গণমাধ্যমের সফলতার গল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিবর্তনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই বাস্তবতা স্পষ্ট। এখন পাঠক জানতে চায় ঘটনার পেছনের অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিক প্রভাব কিংবা মানবিক দিক। আলোচিত কিংবা সমালোচিত—যেকোনো ঘটনায় দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে তথ্য উপস্থাপন করাই হয়ে উঠছে একটি গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠি। জনস্বার্থ, সমস্যা ও সমাধানভিত্তিক সাংবাদিকতার গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে। এই জায়গাগুলোতে কাজ করার সুযোগ ও আগ্রহ তৈরি করতে পারলে আগামী দিনের সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী হবে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সামনে সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো ‘ক্লিকনির্ভরতা’। বেশি পাঠক টানতে গিয়ে অনেক জায়গায় শিরোনাম ও তথ্যের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমনির্ভর প্রচার ব্যবস্থাও সাংবাদিকতাকে নতুন চাপের মধ্যে ফেলেছে। ফলে সাংবাদিকদের এখন শুধু সংবাদ সংগ্রহ করলেই হয় না; তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পাঠকের আচরণ সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হয়। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এটি যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি সম্ভাবনাও। এক যুগ পার করে জাগোনিউজ২৪.কম এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন অনলাইন সাংবাদিকতা আরও বিস্তৃত ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। আমার মনে হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে, সেটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য। দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা অনেকেই তাৎক্ষণিক সংবাদ জানতে চোখ রাখেন জাগো নিউজে, এটিও একটি অর্জন। তবে আগামী দিনের প্রতিযোগিতা হবে আরও গভীর, আরও প্রযুক্তিনির্ভর এবং আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার। প্রত্যাশা একটাই—বস্তুনিষ্ঠতা, স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের জায়গা ধরে রেখে এই পথচলা আরও দীর্ঘ হোক। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠুক শেখার, অনুসন্ধানের এবং সাহসী সাংবাদিকতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মুহূর্তে জাগো নিউজ পরিবারের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এক যুগের অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনের সাংবাদিকতায় আরও বড় আস্থার নাম হয়ে উঠুক জাগোনিউজ২৪.কম। লেখক: জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক এমডিএএ/এমএমকে

Go to News Site