Collector
গারো পাহাড়ের কচি ঘাস-লতাপাতায় বেড়ে উঠছে কোরবানির পশু | Collector
গারো পাহাড়ের কচি ঘাস-লতাপাতায় বেড়ে উঠছে কোরবানির পশু
Somoy TV

গারো পাহাড়ের কচি ঘাস-লতাপাতায় বেড়ে উঠছে কোরবানির পশু

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে দেশি জাতের গরু পালন করছেন শেরপুরের খামারিরা। পাহাড়ের কচি ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে এসব গবাদিপশু। কোনো রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই বেড়ে ওঠা এসব গরুর মাংস সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন।শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত গারো পাহাড়। এই পাহাড়ি এলাকায় সারাবছরই প্রাকৃতিক ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে বড় হয় দেশি জাতের গবাদিপশু।  প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এবার প্রায় ৬৩ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯২ হাজার পশু। এর মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলেই প্রায় ৪ হাজার পরিবার ৩৫ হাজার গরু পালন করছে। বিশাল এই সীমান্তজুড়ে প্রাকৃতিক চারণভূমিতে পর্যাপ্ত খাবার থাকায় এসব গবাদিপশুকে ক্ষতিকারক বা কৃত্রিম খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এতে খামারিদের গরু পালনের খরচ অনেক কমে যায়। ফলে লাভও হয় বেশি। সেইসঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠায় এসব গরুর মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অটুট থাকে। প্রতিদিন সকালে গোয়াল থেকে গরু ছেড়ে দিলে সেগুলো নিজেদের ইচ্ছেতেই পাহাড়ে চলে যায়। দিনভর প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চাহিদামতো ঘাস ও লতাপাতা খায়। বিকেলে রাখালরা গরুর পালগুলো একত্রিত করে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। কোরবানির হাটে এসব গরু বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। তবে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে গরু এলে লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। আরও পড়ুন: হাতি থেকে বাঁচাতে কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক শেরপুরের গারো পাহাড়ে দলবেঁধে প্রাকৃতিক ঘাস ও লতাপাতা খাচ্ছে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা দেশি জাতের গরু। ছবি: সময় সংবাদ ঝিনাইগাতী পাহাড়ি এলাকার গরুর রাখাল তমছের আলী বলেন, ‘আমাদের গরুগুলো সকালে বাড়ির গোয়াল থেকে ছেড়ে দিলে তারা একাই পাহাড়ে চলে আসে। আমরাও গরুর সঙ্গে নিজেদের দুপুরের খাবার নিয়ে চলে আসি পাহাড়ে। সারাদিন গরুগুলো পাহাড়ের লতাপাতা, ঘাস খায়। সন্ধ্যার আগে আগে আমরা গরুগুলোকে একত্রিত করে বাড়ি নিয়ে যাই।’ শ্রীবরদীর বালিজুড়ি গ্রামের মকছেদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের গরুগুলো সারাদিন পাহাড়ের লতাপাতা খায়, তাই তাদের জন্য অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হয় না। আমরা শুধু সন্ধ্যায় বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পানির সঙ্গে সামান্য ভুষি মিশিয়ে খাওয়াই। তবে রোগব্যাধি থেকে রক্ষায় মাঝে মাঝে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে কৃমির ওষুধ খাওয়াই।’ তিনি আরও জানান, এসব গরুর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও বেশি। কোরবানির জন্য গরু কিনতে ইতোমধ্যে শহর থেকে লোকজন আসা শুরু করেছেন। প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হৃষ্টপুষ্ট হওয়া এসব গরুর মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাই কোরবানির জন্য পাহাড়ি এসব গরুর ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, ‘প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এসব গরুর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত।’

Go to News Site