Somoy TV
‘যে করেই হোক আমি আমার ছেলের মরদেহটি ফেরত চাই। শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখতে চাই সন্তানের নিথর দেহ।’রোববার (১০ মে) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মাঝিরকোনা গ্রামে রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি মো. রিয়াদ রশিদের বাবা আব্দুর রশিদ এ কথাগুলো বলেন।নিহত রিয়াদ রশিদের বাবা অবসর প্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক বলেন, ‘তার এক মেয়ে ও চার ছেলের মধ্যে রিয়াদ রশিদ তৃতীয়। সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল ছেলের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়। এর আগে তিনি জানতেন না যে রিয়াদ যুদ্ধে গেছে।’আব্দুর রশিদ বলেন, ‘শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখতে চাই ছেলের নিথর দেহ। সেইসঙ্গে আমি সন্তানের ক্ষতিপূরণ চাই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’এর আগে গত শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিহত রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এ মৃত্যুর সংবাদ পরিবারকে জানান। নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন ও রিয়াদ সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে ছিলেন।আরও পড়ুন: মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি নিহতগত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ৭৩৫। সূত্র জানায়, দিন বদলের স্বপ্নে বিভোর হয়ে সংসারে স্বচ্ছতা ফেরাতে বাবার কৃষি জমি বন্দক রেখে ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর রাশিয়ায় পাড়ি জমান রিয়াদ রশিদ। রাশিয়ায় গিয়ে প্রথমে রিয়াদ একটি ওয়েল্ডিং কোম্পানিতে কাজ করতেন। কিন্তু , রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়াসহ বাড়তি লাভের আশায় রাশিয়ান সরকারের আহ্বানে গত পহেলা এপ্রিল রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রিয়াদ রশিদ। নিজেকে জড়িয়ে নেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একজন যোদ্ধা হিসেবে। গত ১ এপ্রিল ছুটে যান যুদ্ধের ময়দানে। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই গত ২ মে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তে ইউক্রেনের ছোঁড়া ড্রোন হামলায় নিহত হন রিয়াদ রশি সহ তিনজন।তবে পরিবারের লোকজন তার মৃত্যুর খবরটি জানতে পারে ৮ মে। এরপর থেকেই পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম। শোকে বিহ্বল মাঝিরকোনা গ্রাম। ছেলে যুদ্ধে গেছে এ খবর জানতেন না তার বাবা আব্দুর রশিদ। শোকে স্তব্ধ রিয়াদ রশিদের স্বজনরা।এ দিকে সরেজমিনে রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কান্নার রোল। বিছানায় পড়ে বুক ফাটা আর্তনাদ করছেন কিশোরগঞ্জের যুবক রিয়াদ রশিদের মা নাসরিন জাহান।আরও পড়ুন: রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি রিয়াদের বাড়িতে শোকের মাতমতিনি বলেন, ‘মৃত্যুর মাত্র ৪ দিন আগে মোবাইল ফোনের ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে কথা হয় তার। রিয়াদ মায়ের কপালে চুমু খেয়ে বলেছিলেন শিগগিরই বাবা-মাকে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে নিজেই চলে গেছে, না ফেরার দেশে। তাইতো বুকের মানিক নিহত ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে এভাবেই মাতম করছিলেন নাসরিন জাহান।এ দিকে রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর খবরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা মাঝির কোনা গ্রামে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন।জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাত মো. সায়েম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার কাছে ফোন করে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।
Go to News Site