Somoy TV
আবাসন ব্যবসার আড়ালে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে 'হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের' ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার হায়দার কবির মিথুন (৫৪) রাজধানীর দক্ষিণখানের উত্তর ফায়দাবাদের বাসিন্দা। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা প্রতারণা ও আত্মসাতের মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।সিআইডি জানায়, ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর জি+৯ তলা ভবন নির্মাণের নামে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। আকর্ষণীয় প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে বহু গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা সেক্টর-৪ কার্যালয়ে গিয়ে বিনিয়োগ করেন।মামলার বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। একইভাবে তার এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু অর্থ গ্রহণের পরও কোম্পানি কোনো জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। আরও পড়ুন: স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহে আরাফাতকে হত্যা, ৩ আসামির স্বীকারোক্তি পরবর্তীতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে চক্রটি।ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন বোর্ড ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া আর্থিক লেনদেনের দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানায়।তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, হায়দার কবির মিথুন গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে বিদেশে পালিয়ে যান।সিআইডি আরও জানায়, তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এলাকার একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে।মিঠুনকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।এদিকে, এ ধরনের আবাসন ও বিনিয়োগ প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।
Go to News Site