Collector
মা দিবসে হাজারো মায়ের অন্যরকম এক লড়াই | Collector
মা দিবসে হাজারো মায়ের অন্যরকম এক লড়াই
Somoy TV

মা দিবসে হাজারো মায়ের অন্যরকম এক লড়াই

আজ মা দিবস। দুনিয়াজুড়ে ভালবাসা আর শুভেচ্ছায় যখন মায়েদের স্মরণ করছে সবাই, ঠিক তখন রাজ্যের দুঃশ্চিন্তা ফুটে উঠেছে মুনিয়ার মায়ের চেহারায়। হাসপাতালের বারান্দায় তাকে লড়তে হচ্ছে অন্যরকম এক যুদ্ধ!রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার বাসীন্দা মুনিয়ার কদিন ধরে জ্বর। শরীর দুর্বল। মায়ের কাঁধে মাথা এলিয়ে শান্তি খুঁজছে। কিন্তু মায়ের মন অশান্ত। চোখে সন্তানের সুস্থতার আকুলতা। তার ভয়, মেয়েটা হয়তো হামে আক্রান্ত। তাই নিয়ে এসেছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতালে। এমন অনেক মা সন্তান বুকে নিয়ে অপেক্ষমান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। মুনিয়ার মতো একইরকম উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতালে এসেছে রাজিয়া। তার মা রোকেয়া বেগম জানালেন, মেয়ের বেশ কয়েক দিন ধরে প্রচন্ড জ্বর, খাবারে অরুচি, শরীর ব্যাথায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় হাসপাতালে এনেছেন। তিনিও আশঙ্কা করছেন, মেয়ের হাম হয়েছে! দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করানো গেলে নিউমোনিয়া বা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি হতে পারে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দুই মাসের কম সময়ে হাম ও উপসর্গে দেশে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩৫০। একই সময়ে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৪৭ হাজার। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৯ হাজারের বেশি শিশু। ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৯৭৯ শিশু। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশু। এ ছাড়া, এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১ শিশু এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন। হামের উপসর্গসহ ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে এসেছেন মা। ছবি: কে এম তানজিদ ইমাম/সময় নিউজ যদিও হাসপাতালের তথ্য বলছে, ঢাকার দুই সিটিতে কমতে শুরু করেছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে বর্তমানে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে ঢাকার বাইরে। আক্রান্ত হচ্ছেন পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুর দেহে অন্য রোগের অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় বাড়ছে উদ্বেগ। ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. আসিফ হায়দার বলেন,ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে রোগী আসা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ ঢাকার ভেতরের। বাকিরা ঢাকার বাইরের বা আশপাশের। আরও পড়ুন: হাম নিয়ে নতুন উদ্বেগ, আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করাও চলমান টিকা কার্যক্রমে কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্রুত টিকা নেয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের। সেইসঙ্গে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের তাগিদ চিকিৎসকদের। হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ হিসেবে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিহীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সারাদেশে শিশুদের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। এছাড়া চিকিৎসকরা বলছেন, হামে আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া।পাশাপাশি শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর, খেতে না পারা কিংবা তীব্র ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন তারা।দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দুই মাস থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এরমধ্যেই চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ। সারা দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার।

Go to News Site