Collector
১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের ডিএমডি গ্রেফতার | Collector
১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের ডিএমডি গ্রেফতার
Jagonews24

১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের ডিএমডি গ্রেফতার

আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (১০ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের মাধ্যমে উত্তরখান থানার কাছে ১০ কাঠা জমির ওপর ভবন নির্মাণ করে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচার চালানো হয়। এতে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে অর্থ বিনিয়োগ করেন। বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে এক লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানির অফিসে দেন। এসময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাদীর এক বন্ধু মোট নয় লাখ টাকা দেন। অভিযুক্তরা গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিপরীতে কোম্পানির নিজস্ব রসিদ ও চেক দিলেও পরবর্তীতে শেয়ারভুক্ত জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আসামিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে আনুমানিক ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন। জসীম উদ্দিন খান বলেন, বাদী ও অন্য গ্রাহকরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন। একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন, কোম্পানির এমডি শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিতে যারা আর্থিক লেনদেন করেছেন, সে দায়ভার তারা নেবেন না। গ্রেফতার হায়দার কবির মিথুন কোম্পানির ডিএমডি পদে থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত সব মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যান। শনিবার (৯ মে) মধ্যরাতে তিনি বিদেশ থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে গ্রেফতার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্য পাওয়া যায় বলেও জানান এই কর্মকর্তা। কেআর/একিউএফ

Go to News Site