Jagonews24
বাজার থেকে কেনা টমেটো, বেগুন কিংবা শাকসবজিতে কতটা বিষাক্ত কীটনাশক রয়েছে— এ প্রশ্ন এখন প্রায় সব পরিবারের। কিন্তু সেই বিষ শনাক্তের পরীক্ষাই এতদিন ছিল ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এ অবস্থায় সবজিতে বিষ শনাক্তের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষকরা। শেকৃবি গবেষক দল এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যে প্রযুক্তিতে খরচ কমে নেমে আসবে ৪০ ভাগের এক ভাগে। এর মাধ্যমে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ে জানা যাবে কোনো সবজি বা পানিতে ক্ষতিকর কীটনাশক রয়েছে কি না। প্রচলিত পরীক্ষায় এক নমুনা বিশ্লেষণ করতে খরচ হতো ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা, সময় লাগত কয়েক দিন পর্যন্ত। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (সাউরেস) অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালনা করেন কৃষি রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম। গবেষকরা জানান, নতুন পদ্ধতিটি তৈরি করা হয়েছে অ্যাসিটাইলকোলিনস্টেরেজ (এসিএইচই) নামের একটি এনজাইমের কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে। এটি মূলত একটি ‘কালোরিমেট্রিক’ বা বর্ণভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে নমুনায় কীটনাশকের উপস্থিতি থাকলে পরীক্ষার রং পরিবর্তিত হবে। এনজাইমের কার্যকারিতা যদি ৫০ শতাংশের বেশি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে ধরে নেওয়া হবে সেখানে থাকা কীটনাশক শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় রয়েছে। আরও পড়ুনশুরুতেই নষ্ট হয় ৩০% চামড়া, সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ পাবেন মাদরাসা ছাত্ররা অর্ধযুগ আমদানি নেই, বন্ধের পথে রপ্তানিও গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষাটির নির্ভুলতার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চমানের। গবেষকেরা জানান, এর বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতার মান (R² = 0.997), যা গবেষণাটিকে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে প্রমাণ করে। এই প্রযুক্তি এরই মধ্যে টমেটো, বেগুন, পালং শাক, করলা, শসা, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজিতে প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেচের পানি ও পুকুরের পানির নমুনাতেও সফলভাবে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষাগুলো এত ব্যয়বহুল যে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আমরা এমন এক সহজ পদ্ধতি তৈরি করেছি, যা ভবিষ্যতে র্যাপিড ডিটেকশন কিট বা কাগজভিত্তিক স্ট্রিপে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। তখন কৃষক কিংবা সাধারণ মানুষ নিজেরাই খাবারের নিরাপত্তা যাচাই করতে পারবেন। সাউরেস পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ এম আমিনুজ্জামান বলেন, মাঠপর্যায়ে যদি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ এই গবেষণাকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু গবেষণাগারের উদ্ভাবন নয়, বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য এক প্রযুক্তি। এটি সরকারি পর্যায়ে কীটনাশক নীতিমালা প্রণয়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এমডিএসএ/কেএসআর
Go to News Site