Somoy TV
শিক্ষকদের পদোন্নতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়ায় পুনরায় অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই শিক্ষক।রোববার (১০ মে) শিক্ষক সমাজের এক সাধারণ সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে পদোন্নতি সংক্রান্ত সংকট সমাধানের আশ্বাসে সাময়িকভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রমে ফিরেছিলেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি সংক্রান্ত সংকট সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ৮ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় প্রতিশ্রুত সমাধানের বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে। এর প্রতিবাদে শিক্ষক সমাজ পুনরায় শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং সিন্ডিকেট সদস্য ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের বিষয়ে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘উপাচার্যের কার্যক্রমে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা হতাশ। একাধিকবার অনুরোধ করার পরও সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলেই আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’ আরও পড়ুন: পদোন্নতির দাবিতে আমরণ অনশনে ববি শিক্ষক অন্যদিকে ড. তানভীর কায়সার জানান, সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি গুরুত্ব না পাওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে চলমান এ সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আশঙ্কা, বারবার শাটডাউন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেশনজট আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল পরীক্ষা, মিডটার্ম, ক্লাস টেস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও নতুন এ অচলাবস্থার কারণে তা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সভায় কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়নি এবং কেউ ভিন্নমতও দেননি।’ শিক্ষকরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও সরকার যতদিন দায়িত্বে রাখবে, ততদিন নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান উপাচার্য। উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দফায় পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে ৪ মে থেকে সীমিত পরিসরে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়।
Go to News Site