Collector
সার তৈরির মূল উপাদান সালফিউরিক অ্যাসিডের দাম বেড়েছে | Collector
সার তৈরির মূল উপাদান সালফিউরিক অ্যাসিডের দাম বেড়েছে
Jagonews24

সার তৈরির মূল উপাদান সালফিউরিক অ্যাসিডের দাম বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ফসফেট সার তৈরি মূল উপাদান সালফিউরিক অ্যাসিড সরবরাহে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত বিঘ্ন হওয়ার ফলে এই অ্যাসিডের দাম বেড়ে গেছে। সংকট আরও বাড়ার আরেকটি কারণ হিসেবে চীনের সালফিউরিক অ্যাসিড রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের কথাও বলা হয়েছে।  রোববার (১০ মে) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  মার্কিন এই দৈনিকটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সালফিউরিক অ্যাসিড ফসফেট সার উৎপাদন, শিলা থেকে তামা ও অন্যান্য ধাতু পৃথক করা, কাঠের পাল্প প্রক্রিয়াকরণ, ইস্পাত পরিষ্কারকরণ, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ এবং রাবার ভলকানাইজেশনে ব্যবহৃত হয়।  প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের সালফারের একটি বড় অংশ পারস্য উপসাগরের তেল শোধনাগার ও গ্যাস প্ল্যান্ট থেকে আসে, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চীনের সালফিউরিক অ্যাসিড রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তকে এই সংকট আরও বাড়ার অন্য আরেকটি বলে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। ফ্রিদা গোর্দন-এর বরাতে পত্রিকাটি জানায়, সার বাজার ও খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে চলতি মাসে রপ্তানি সীমিত করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সালফার উৎপাদনকারী দেশ চীন। এর ফলে দাম আরও বেড়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন। কেএম

Go to News Site