Jagonews24
মাহজাবীন তাসনীম রুহীমা শব্দটি ছোট, কিন্তু এর গভীরতা অপরিমেয়। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, নিঃশব্দ ত্যাগ আর নিরন্তর মমতার যে এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক, তার নামই মা। মানবসভ্যতার সূচনা থেকে মা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। তবুও প্রশ্ন জাগে মায়ের প্রতি এই অসীম ভালোবাসা কি একটি নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ? নাকি তা এখন ক্রমেই ভার্চুয়াল প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক উৎসবে রূপ নিচ্ছে? মে মাসের দ্বিতীয় রোববার এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব আবেগের স্রোত। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ভরে ওঠে মায়ের সঙ্গে তোলা ছবি, আবেগঘন ক্যাপশন আর ভালোবাসার ঘোষণা দিয়ে। দেখলে মনে হয় এ যেন ভালোবাসার এক উচ্ছ্বাসময় উৎসব। কিন্তু এই দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক অজানা বৈপরীত্য। বাস্তব জীবনে যেখানে অনেকেই মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, সেখানে ভার্চুয়াল জগতে ভালোবাসার এই প্রকাশ অনেক সময়ই হয়ে ওঠে প্রতীকী কখনো কখনো কৃত্রিমও। এই প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবল স্রোত। মা দিবসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিশাল বাজার। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, সবখানেই বিশেষ অফার, উপহারের প্যাকেজ আর প্রচারণার জোয়ার। ভালোবাসা যেন এখানে পণ্যে রূপান্তরিত। মা দিবসের প্রবর্তক অ্যানা জার্ভিস এই বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো বস্তুগত উপহারে মাপা যায় না, এটি অনুভবের বিষয়, প্রকাশের নয়। তবে এই দিনটিকে একপাক্ষিকভাবে অস্বীকার করাও যুক্তিযুক্ত নয়। ব্যস্ততা ও প্রতিযোগিতার এই সময়ে মানুষ অনেক সময় তার সবচেয়ে কাছের মানুষটির প্রতিই উদাসীন হয়ে পড়ে। মা দিবস সেই ভুলে যাওয়া দায়িত্ব ও অনুভূতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসে। এটি আমাদের থামতে শেখায়, ভাবতে শেখায় আমাদের জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে যে মানুষটি ছায়ার মতো অবদান রেখে চলেছেন, তাকে আমরা কতটা মূল্য দিচ্ছি। সুতরাং, প্রশ্নটি সরল হলেও গভীর ভালোবাসা কি প্রকাশের বিষয়, নাকি অনুভবের? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট কিংবা একদিনের উপহার হয়তো সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা প্রতিফলিত হয় প্রতিদিনের আচরণে খোঁজ নেওয়ায়, পাশে থাকার মধ্যে, সম্মান ও যত্নে। মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো দিনপঞ্জির নির্দিষ্ট তারিখে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বরং বছরের প্রতিটি দিনেই সেই ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটানোই সত্যিকারের দায়িত্ব। কারণ, মায়ের হাসি কেনা যায় না তা অর্জন করতে হয় আন্তরিকতা, সময় ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে। লেখক: শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, এম সি কলেজ, সিলেট আরও পড়ুনতারুণ্যের ভাবনায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবসপৃথিবীর সব অভিধান-উপমা যদি এক হয় তবুও অনন্য ‘মা’ কেএসকে
Go to News Site