Collector
কোরবানির ঈদ ঘিরে আলোচনায় মৌলভীবাজারের ‘কালোমানিক’ | Collector
কোরবানির ঈদ ঘিরে আলোচনায় মৌলভীবাজারের ‘কালোমানিক’
Somoy TV

কোরবানির ঈদ ঘিরে আলোচনায় মৌলভীবাজারের ‘কালোমানিক’

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলার খামারিরা এখন গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদ ঘনিয়ে আসায় নিজ নিজ খামারে গরুর যত্ন নিতে দিন-রাত কাজ করছেন তারা। জেলার উত্তরমুলাইম গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারি আব্দুল গপ্পার মিয়ার খামারে কালো রঙের আকর্ষণীয় তিনটি ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় লালন-পালন করা হচ্ছে। শরীরজুড়ে ঘন কালো পশমে মোড়ানো এই গরুগুলোর গঠন নাদুসনুদুস এবং দৃষ্টিনন্দন। চলাফেরাতেও রয়েছে আলাদা স্বতন্ত্র।খামারি আব্দুল গপ্পার মিয়া মূলত লন্ডন প্রবাসী। দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাসের পর দেশে ফিরে শখের বসে বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে তোলেন ‘জে আর ডেইরি’ নামের গরুর খামার। সেখানকার একটি গাভী থেকে পরপর বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর গরুগুলো বড় করার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই থেকেই শুরু হয় লালন-পালনের যাত্রা। নিজের সন্তানের মতো করেই তিনি বড় করেছেন এই তিনটি ষাঁড়। পরিবারের সদস্যরা আদর করে এই তিনটি ষাঁড়ের নাম রেখেছেন ‘কালোমানিক’। এক বা দুটি নয়, তিনটি কালোমানিকই এখন এলাকায় সবার নজর কাড়ছে। আব্দুল গপ্পার মিয়া জানান, বড় কালোমানিকটির বয়স প্রায় ৩ বছর। অন্য দুটি আড়াই বছরের কাছাকাছি। এবারের কোরবানির ঈদে তিনি গরুগুলো বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। প্রতিদিন খাবার হিসেবে দানাদার খাদ্য ও প্রচুর পরিমাণ সবুজ ঘাস দেয়া হয়। কোনো ধরনের কৃত্রিম খাবার দেয়া হয় না। আরও পড়ুন: কেজি দরে বিক্রি হবে ‘কালা বাবু’ ও ‘ধোলা বাবু’ তিনি আরও বলেন, সকাল, দুপুর ও রাতে একটি ষাঁড়কে দানাদার খাবার হিসেবে প্রায় ১২ কেজি, ২০ কেজি ঘাস এবং ৭ কেজি খড় দেয়া হয়। এতে প্রতিদিন এক একটি ষাঁড়ের পেছনে প্রায় ৮০০ টাকার খাবার লাগে। মাস শেষে শুধু খাবার খরচই দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ টাকা। পাশাপাশি তিন থেকে চারজন শ্রমিকও এসব গরুর দেখভালে কাজ করছেন। পাড়া-প্রতিবেশীরাও এই কালোমানিকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। উত্তমমুলাইম গ্রামের ওয়াহিদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই এই তিনটি গরু বড় হয়েছে। মালিক খুবই যত্ন নিয়ে লালন-পালন করেছেন, কোনো ভেজাল খাবার দেননি।’ মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীনুল হক বলেন, আমাদের সার্বিক সহায়তায়ই এই তিনটি ষাঁড় বড় হয়েছে। খামারি আব্দুল গপ্পার আরও বলেন, বাজার দরের তুলনায় তুলনামূলক কম দাম চাইছি। তবে ন্যায্য দাম পেলেই গরুগুলো বিক্রি করব। বড় কালোমানিকটির ওজন প্রায় ৩৫ মণ। অন্য দুটি প্রায় ২৫ মণের মতো। কিছুদিন আগে বড় কালোমানিকটির দাম ৬ লাখ টাকা উঠেছিল, তবে তখন বিক্রি করিনি। দাম চাইছি ৮ লাখ টাকা। আর বাকি দুইটির জন্য মোট ১১ লাখ টাকা দাম চাইছি।

Go to News Site