Somoy TV
রাজধানীর আদাবরে ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ নামে পরিচিত এক কিশোর গ্যাং লিডার মাত্র ২০ বছর বয়সেই গড়ে তুলেছেন নিজস্ব গ্যাং। চাপাতি হাতে মহড়া দিয়ে প্রকাশ্যে ছিনতাই চালানোই তাদের মূল কাজ। এমনকি নিজের এলাকায় অন্য কোনো ছিনতাইকারী চক্র এলেও রেহাই পায় না এই গ্যাংয়ের হাত থেকে। গত ৬ বছরে ১২ মামলার আসামি হয়ে ৭ বার জেলেও গেছেন বিল্লাল। তবে বেশিদিন তাকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসার পর তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গত ১১ এপ্রিল বিকেলে বিল্লালের নেতৃত্বে রাজধানীর শ্যামলী হাউজিং এলাকায় এক পাঠাও কর্মীর ওপর হামলা চালায় গ্যাং সদস্যরা। মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিতে বাধা দিলে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তার কাছ থেকে সবকিছু লুট করে পালিয়ে যায় তারা। ভুক্তভোগী বলেন, কয়েকটা বাড়ি মারছে আমাকে। টাকা দিতে না চাইলে আরও মারধর করে। পরে দোকানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করি। আশপাশে লোকজন ছিল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুর যেন ‘অপরাধের রাজধানী’, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই ও খুন এই গ্যাংয়ের দাপটে আতঙ্কে রয়েছেন আদাবরের নবোদয় হাউজিং, শেকেরটেক, পিসি কালচার হাউজিং, বায়তুল আমান হাউজিং ও মনসুরাবাদ এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। কেউ ফুচকা বিক্রি করুক বা রাস্তা দিয়ে হাঁটুক; যেকোনো সময় ছিনতাইয়ের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি বিল্লাল গ্যাংয়ের ভয়ে অন্য ছিনতাইকারী চক্রও আতঙ্কে থাকে। সম্প্রতি নবোদয় এলাকায় ছিনতাই করতে এসে ধাওয়া খেয়ে পানিতে পড়ে যায় ‘তরুণ গ্যাং’-এর এক সদস্য। পুলিশ জানায়, হাতে ট্যাটু; এক পাশে মুকুট, অন্য পাশে চাপাতির ছবি। এলাকায় বিল্লাল পরিচিত ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ নামে। আদাবর এলাকায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ছিনতাই করাই তার গ্যাংয়ের প্রধান কাজ। মূলত ২০২২ সাল থেকে বিল্লাল সক্রিয়ভাবে অপরাধে জড়িত। চাচার বাসায় থাকার কারণে এলাকায় সে ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ নামে পরিচিতি পায়। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ১২টি মামলা এবং ৬টি গ্রেফতারি পরোয়ানা। এরই মধ্যে বিল্লাল ৭ বার গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছে। বিল্লাল বলেন, ‘এলাকায় সবাই ভাইস্তা ভাইস্তা বলে ডাকে। কয়েকবার জেলে গেছি, দেড় মাস-দুই মাসও ছিলাম।’ আরও পড়ুন: আবারও উত্তপ্ত ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, চাঁদাবাজি-গুলিতে বাড়ছে আতঙ্ক সম্প্রতি শ্যামলী হাউজিংসহ তিনটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় নাম আসার পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তার সহযোগী মাউরা রুবেল, সাইদ, কোবরাসহ অন্তত ১০ জন সদস্য এখনো পলাতক। তাদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, ভাইস্তা বিল্লালকে আমরা অনেকদিন ধরেই খুঁজছিলাম। একটি টিম তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। তার নামে ১২টি মামলা ও একাধিক ওয়ারেন্ট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি তার গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদেরও গ্রেফতার করতে। এলাকাবাসীর দাবি, বিল্লাল গ্রেফতার হলেও তার অনুপস্থিতিতে যেন অন্য কোনো গ্যাং আদাবরে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
Go to News Site