Collector
আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে ৩২ কৃষকের পাটক্ষেত নষ্টের অভিযোগ | Collector
আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে ৩২ কৃষকের পাটক্ষেত নষ্টের অভিযোগ
Jagonews24

আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে ৩২ কৃষকের পাটক্ষেত নষ্টের অভিযোগ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ফসলি জমির আগাছা পরিষ্কার করতে ছিটানো ওষুধের প্রভাবে ৩২ জন কৃষকের প্রায় ৮.৮৩ একর জমির পাটক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম না মেনে চাঁন মিয়া নামের এক ব্যক্তি জমিতে আগাছানাশক স্প্রে করায় বাতাসে উড়ে তা আশপাশের ক্ষেতগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী কৃষকদের। সম্প্রতি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হাতিমোহন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চাঁন মিয়া ওই এলাকার সারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, বহরপুর ইউনিয়নের ধুলাঘাট বিলে পেঁয়াজ ওঠার পর পরিত্যক্ত জমিতে আগাছা দমনে ওষুধ স্প্রে করেন চাঁন মিয়া। এরপর থেকেই হাতিমোহন এলাকার কৃষকদের জমির পাট নষ্ট হতে শুরু করে। বর্তমানে পাট গাছের পাতা কুঁকড়ে গেছে এবং বৃদ্ধি থমকে গেছে। ভুক্তভোগী কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, চাঁন মিয়া তার জমিতে কী আগাছানাশক ব্যবহার করেছেন, তা আমরা জানি না। কিন্তু সেই ওষুধের প্রভাবে আমাদের সব পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এই মাঠের অন্তত ৩৫ জন কৃষকের ৫০-৬০ বিঘা জমির পাট এখন ধ্বংসের মুখে। আমার ৩৫ শতাংশ জমির পাট মরে গিয়ে পুরো ক্ষেত ঘাসে ভরে গেছে। আরেক কৃষক ইজাজুল মল্লিক বলেন, চাঁন মিয়া যখন তার জমিতে বিষ স্প্রে করছিলেন, তখন আমরা তাকে নিচু করে স্প্রে করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেননি। ফলে বাতাসে ওই ওষুধ যতদূর গেছে, ততদূর পর্যন্ত পাটক্ষেত পুড়ে গেছে। আমার ৩ বিঘা জমির পাট এখন শেষ। কৃষক সাইফুল মল্লিক আক্ষেপ করে বলেন, এই পুরো মাঠজুড়ে সবাই পাটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ মণ করে পাট হতো। সারাবছর কষ্ট করে খরচ করার পর পাট বিক্রি করে আমরা কিছু লাভের মুখ দেখতাম। কিন্তু আগাছানাশকের কারণে এবার সব শেষ হয়ে গেল। এবার আমাদের আর কোনো আশাই রইল না। ইউসুফ বিশ্বাস নামে আরেক কৃষক বলেন, ওষুধ তো বিভিন্ন ধরনের হয়, কিছু ওষুধ বাতাসে ছড়ায় না। কিন্তু চাঁন মিয়া যে ওষুধ ব্যবহার করেছেন, তা বাতাসে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে ক্ষতি করে। বাইরের লোক দিয়ে নিয়ম না মেনে উঁচু করে স্প্রে করানোর কারণেই এই সর্বনাশ হয়েছে। এখন যে অবস্থা, তাতে এই পাট গাছগুলো আর টিকে থাকার মতো অবস্থায় নেই। অভিযুক্ত চাঁন মিয়া বলেন, আমি নিজে মাঠে যাইনি, শ্রমিক দিয়ে স্প্রে করিয়েছিলাম। শ্রমিকরা কীভাবে কাজ করেছে তা আমার জানা নেই। তবে আশপাশে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে শুনলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে উপ-সহকারী মাঠ কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগাছানাশকের প্রভাব বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় ৩২ জন কৃষকের ৮.৮৩ একর পাটক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন প্রণোদনার আওতায় আনা হবে এবং তারা অভিযোগ করলে কৃষি অধিদপ্তর আইনি সহযোগিতা দেবে। রুবেলুর রহমান/কেএইচকে/এমএস

Go to News Site